তেলঙ্গানার সিদ্ধিপেটে দলিত কংগ্রেস কর্মীদের এক বিক্ষোভ মিছিল চলে যাওয়ার পর ভারত রাষ্ট্র সমিতি (বিআরএস)-র বিরুদ্ধে রাস্তা 'পূতপবিত্র' বা শুদ্ধ করার উদ্দেশ্যে হলুদ পানি ছিটানোর গুরুতর অভিযোগ তুলেছে কংগ্রেস।
কংগ্রেসের তথ্য অনুযায়ী, তেলঙ্গানার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাও (কেসিআর)-এর এর্রাবল্লির বাসভবন ঘেরাও অভিযানের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দলিত কংগ্রেস কর্মীরা একটি বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। সেই পথ ধরে কর্মীরা হেঁটে যাওয়ার পরই বিআরএস সমর্থকেরা রাস্তায় হলুদ পানি ছিটান বলে অভিযোগ ওঠে। নিকৃষ্টতম এই বর্ণবিদ্বেষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বুধবার তেলঙ্গানা বিধানসভায় রাজনৈতিক উত্তাপ তীব্র হয়ে ওঠে। একদিকে কংগ্রেস এই কট্টর বৈষম্যমূলক কাজের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে, অন্যদিকে বিআরএস সদস্যরা কেসিআর-এর বিরুদ্ধে বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদে হইচই সৃষ্টি করেন।
তেলঙ্গানার উপ-মুখ্যমন্ত্রী ভাট্টি বিক্রমার্কা মল্লু বিধানসভায় এই ঘটনাটি উত্থাপন করে বিস্তারিত আলোচনার দাবি জানান।
বিআরএস বিধায়কেরা যখন পুলিশের হাতে তাঁদের মহিলা বিধায়কদের হেনস্থার অভিযোগ তুলে বিচার দাবি করছিলেন, তখন উপ-মুখ্যমন্ত্রী বিআরএস এমএলসি মধুসূদন টাটা কর্তৃক স্পিকার গদ্দাম প্রসাদ কুমারের বিরুদ্ধে করা মন্তব্য মনে করিয়ে দেন। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, "আপনারা কিসের বিচার চান? আসল বিচার তো প্রয়োজন রাজ্যের দলিত ও বহুজন সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য। বিচার দরকার আদিবাসী সমাজের জন্য। আপনাদের হাতে এতদিন ধরে যারা অপমানিত হয়ে আসছেন, ন্যায় পাওয়ার অধিকার তাঁদেরই রয়েছে।" তিনি আরও যোগ করেন, বিআরএস আজও বৈষম্যমূলক মানসিকতা বজায় রেখেছে এবং দলিত সমাজ আর কোনো অপমান সহ্য করবে না।
ভঙ্গীর কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য কিরণ কুমার চামালা রাস্তায় হলুদ পানি ছিটানোর ঘটনার কড়া সমালোচনা করেন। সোশ্যাল মিডিয়া এক্স-এ এক পোস্টের মাধ্যমে তিনি লেখেন, "এটা রাজনীতির পরিবেশ হতে পারে না। এই ধরনের চিন্তাভাবনা বিআরএস-এর আসল মানসিকতা ফুটিয়ে তোলে।" তিনি জানান, তেলঙ্গানার রাজনীতিতে প্রয়োজন উন্নয়ন, আত্মমর্যাদা ও গণতান্ত্রিক তর্ক-বিতর্ক—কোনো কুসংস্কার, ঘৃণা কিংবা অবমাননাকর আচরণ নয়।
পাশাপাশি তেলঙ্গানা যুব কংগ্রেসও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এটিকে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়গের সাথে যুক্ত সাম্প্রতিক বিতর্কের সাথে তুলনা করেছে।
বিধানসভা থেকে বিআরএস বিধায়কদের বরখাস্ত
রাস্তা শুদ্ধকরণের এই বিতর্ক যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই তেলঙ্গানা বিধানসভার ভেতরে বিআরএস সদস্যদের ব্যাপক হট্টগোল ও বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে।
কেসিআর সম্পর্কে কংগ্রেস বিধায়কদের বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদে বিআরএস বিধায়কেরা ওয়েলে নেমে এসে স্লোগান দিতে থাকেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে স্পিকার ও মন্ত্রীদের বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও তাঁরা আসনে ফিরে না আসায় ২০ জনেরও বেশি বিআরএস বিধায়ককে চলতি বর্ষাকালীন অধিবেশনের বাকি সময়ের জন্য বরখাস্ত করা হয়। সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী ডি শ্রীধর বাবু বিধায়কদের বরখাস্তের এই প্রস্তাব পেশ করেন। বরখাস্ত হওয়া বিধায়কদের তালিকায় রয়েছেন বিআরএস-এর ডেপুটি ফ্লোর লিডার টি হরিশ রাও, কে টি রমা রাও, জি জগদীশ্বর রেড্ডি, পি কৌশিক রেড্ডি সহ একাধিক শীর্ষ নেতা।
বিআরএস সদস্যরা দাবি জানান, কিছু কংগ্রেস বিধায়ক কেসিআর-এর মৃত্যু কামনা করে মন্তব্য করেছেন এবং সেই বিষয়ে বিধানসভায় আলোচনার অনুমতি দিতে হবে। অন্যদিকে, কংগ্রেস বিষয়টিকে দলিত সম্প্রদায়ের প্রতি বিআরএস-এর বৈষম্যমূলক আচরণের একটি অন্যতম প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরে সরব হয়।
তবে সরবরাহ করা তথ্যে এই বিষয়ে বিআরএস নেতৃত্বের সরাসরি কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।