নেপচুনের কক্ষপথের বাইরে একটি ছোট বরফের বস্তুর চারপাশে পাতলা বায়ুমণ্ডলের খোঁজ পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। এর ফলে সৌরজগতের দূরের বস্তুগুলো নিয়ে বিজ্ঞানীদের বর্তমান ধারণা বদলে যেতে পারে। বিবিসি এই খবরটি জানিয়েছে। 

এই, বস্তুটির নাম (৬১২৫৩৩) ২০০২ এক্সভি৯৩। এটি কুইপার বেল্ট নামের অঞ্চলে অবস্থিত। এটি লম্বায় মাত্র ৫০০ কিলোমিটার বা ৩১০ মাইল। এটি প্লুটোর চেয়ে অনেক ছোট। প্লুটোর আকার প্রায় ২,৩৭৭ কিলোমিটার বা ১,৪৭৭ মাইল। 

বিজ্ঞানীরা আগে মনে করতেন, এত ছোট বস্তুর মাধ্যাকর্ষণ শক্তি খুব কম থাকে। তাই এরা দীর্ঘ সময়ের জন্য বায়ুমণ্ডল ধরে রাখতে পারে না। জাপানের ন্যাশনাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল অবজারভেটরির বিজ্ঞানী কো আরিমাতসুর নেতৃত্বে একদল জ্যোতির্বিজ্ঞানী নতুন এই আবিষ্কার করেছেন। 

২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে জাপানের বিভিন্ন জায়গা থেকে এই বস্তুটিকে পর্যবেক্ষণ করা হয়। তখন এটি দূরের একটি তারার সামনে দিয়ে যাচ্ছিল। এই ঘটনাকে বিজ্ঞানের ভাষায় ‘স্টেলার অকালটেশন’ বলা হয়। এ সময় তারার আলো কীভাবে বদলায়, বিজ্ঞানীরা তা খেয়াল করেন। আলো হঠাৎ করে অদৃশ্য হয়ে গেলে বুঝতে হবে সেখানে কোনো বায়ুমণ্ডল নেই। আর আলো ধীরে ধীরে কমলে বুঝতে হবে সেখানে গ্যাস বা বায়ুমণ্ডল আছে। 

বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, ওই বস্তুটির চারপাশের তথ্যগুলো একটি পাতলা বায়ুমণ্ডল থাকার প্রমাণ দেয়। এর আগে প্লুটোর চারপাশে পাতলা বায়ুমণ্ডল দেখা গিয়েছিল। কিন্তু নেপচুনের বাইরের অন্য কোনো বস্তুর ক্ষেত্রে এমন প্রমাণ আগে কখনো পাওয়া যায়নি। 

বিজ্ঞানীদের হিসাব অনুযায়ী, এই বস্তুটির বায়ুমণ্ডল এক হাজার বছরের কম সময় টিকে থাকার কথা। যদি না নতুন করে গ্যাস তৈরি হতে থাকে। এর মানে হলো, এই বায়ুমণ্ডল খুব সম্প্রতি তৈরি হয়েছে। 

তবে জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ সেখানে অন্য কিছু দেখেছে। এই টেলিস্কোপ বস্তুটির পৃষ্ঠে এমন কোনো জমাট গ্যাস পায়নি, যা ধীরে ধীরে বাষ্প হয়ে একটি বায়ুমণ্ডল ধরে রাখতে পারে। 

এর জন্য গবেষকরা দুটি কারণের কথা ভেবেছেন। এক, বস্তুটির গভীর থেকে কোনো উপাদান সম্প্রতি উপরে উঠে এসে গ্যাস ছড়িয়ে দিতে পারে। দুই, কোনো ধূমকেতুর ধাক্কায় এর কিছু উপাদান মহাকাশে ছড়িয়ে গিয়ে সাময়িকভাবে এই বায়ুমণ্ডল তৈরি হতে পারে। প্লুটো ছাড়া নেপচুনের বাইরের কোনো বস্তুতে সম্ভাব্য বায়ুমণ্ডল থাকার এটিই প্রথম ঘটনা। 

গবেষকরা জানিয়েছেন, আগামী দিনে আরও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে জানা যাবে কীভাবে এই বায়ুমণ্ডল তৈরি হলো। দূরের অন্যান্য বরফের জগতেও একই রকম কিছু ঘটে কি না, তা-ও জানা যাবে।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews