বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেছেন, মানুষের প্রতি ভালোবাসা, ত্যাগ ও সংগ্রামের কারণেই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নিয়েছেন। তার আদর্শ ও রাজনৈতিক সংগ্রাম আগামী দিনেও নেতাকর্মীদের পথ দেখাবে।

শনিবার সন্ধ্যায় মানিকগঞ্জ জেলা শহরের দলীয় কার্যালয়ে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা বিএনপি ও সব সহযোগী সংগঠন এ সভার আয়োজন করে।

বিমানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সবাইকে চলে যেতে হবে। কিন্তু কিছু মানুষ থাকেন, যারা প্রস্থান করার পরও প্রত্যেক মানুষের হৃদয়ে অবস্থান করে যান। সেই রকম ব্যক্তিত্ব আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তার ত্যাগ, স্বাধীনতা, সংগ্রাম ও মানুষের প্রতি ভালোবাসাই আজ তাকে এত মহান করেছে। আমরা সেই নেত্রীর সৈনিক হিসেবে কাজ করছি।

জেলা কৃষকদলের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া সাঈদের সঞ্চালনায় সভায় মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবির, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আজাদ হোসেন খান, নূরতাজ আলম বাহার ও জহির আলম খান লোদীসহ জেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বক্তব্য দেন। এ সময় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

খালেদা জিয়াকে কেন আপসহীন নেত্রী বলা হয়—এমন প্রশ্ন তুলে বিমান মন্ত্রী বলেন, ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তার কঠোর ভূমিকার কারণেই তাকে ‘আপসহীন নেত্রী’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছে। তিনি গণতন্ত্র ও দেশের মানুষের অধিকার আদায়ে দীর্ঘদিন সংগ্রাম করেছেন।

আফরোজা খানম রিতা বলেন, খালেদা জিয়া চাইলে তার সন্তানের কাছে বিদেশে চলে যেতে পারতেন। কিন্তু তিনি দেশ ছেড়ে যাননি। দেশের মানুষের ভালোবাসার কারণেই সব নির্যাতন সহ্য করেও তিনি দেশে থেকেছেন। ‘আমরা কেন তার প্রতিদান দেব না? আমাদের মনে রাখতে হবে, নিজের স্বার্থের চেয়ে দল ও দেশ বড়।

দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, দলের ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়—এমন কোনো কাজ করা যাবে না। সবাইকে সচেতন ও সতর্ক থাকতে হবে। আমাদের একটি শক্তিশালী প্রতিপক্ষ দাঁড়িয়ে গেছে। সুতরাং সতর্কতার সঙ্গে আমাদের কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, দেশের মানুষের যাতে কোনো ক্ষতি না হয়, সেদিকে সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে। বিএনপির সৈনিক হিসেবে নিজেদের যে অবস্থান তৈরি হয়েছে, সেটিও অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে। সামনে অনেক কাজ রয়েছে এবং আগামী নির্বাচন অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং হবে। এ কারণে সব কাজ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে করতে হবে।

দলের জন্য কারা প্রকৃতপক্ষে কাজ করছেন, তা নেতৃত্বকে বুঝতে হবে উল্লেখ করে বিমানমন্ত্রী বলেন, এখন অনেক লোক আসবে, যারা দেখাবে বিএনপির জন্য তারা জীবন দিয়ে দিচ্ছে। কিন্তু নেতৃত্বে যারা আছেন, তাদের বুঝতে হবে আসলে দলের জন্য কাকে প্রয়োজন। তিনি বলেন, সে আমার যত কাছের লোকই হোক না কেন, মনে রাখতে হবে দলই সবার ওপরে।

দেশের স্বার্থে, তারেক রহমানের স্বার্থে এবং নিজ এলাকার স্বার্থে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে আফরোজা খানম রিতা বলেন, একটি ভুল সিদ্ধান্তের জের আগামী পাঁচ বছর টানতে হতে পারে। তাই দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। নিজেদের মধ্যে কোনো বিভাজন বা দ্বন্দ্ব রাখা যাবে না।

তিনি আরও বলেন, আল্লাহ যাকে যতটুকু দেওয়ার, তা নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন। তাই হিংসা বা লোভ করে লাভ নেই। আমাদের উচিত প্রাপ্য অবস্থানকে সম্মানের সঙ্গে ধরে রাখা। 

নিজের রাজনৈতিক পথচলার প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, আজ তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের ভোটের কারণেই আমি এখানে দাঁড়িয়ে কথা বলতে পারছি এবং মন্ত্রিত্ব পেয়েছি। সুতরাং আমার প্রথম দায়িত্ব হলো তৃণমূলের নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের স্বপ্ন পূরণ করা।

তিনি বলেন,  আমি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরে রাজনীতি শুরু করেছি। আমার প্রায়ই তার কথা মনে পড়ে। আগামীতে মানিকগঞ্জে ধানের শীষকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ১৭ বছর ধানের শীষ না থাকায় নেতাকর্মীদের অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। বিশেষ করে ছাত্রদল থেকে যারা রাজনীতি করে এসেছেন, তাদের তিনি সবসময় অগ্রাধিকার দেন। কারণ তারা অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে রাজনীতি শিখেছেন।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews