পদ্মায় ডুবে যাওয়া যাত্রীবাহী বাসটির উদ্ধারের সর্বশেষ যা জানা যাচ্ছে

ছবির উৎস, মীর সামসুজ্জামান সৌরভ

ছবির ক্যাপশান,

পদ্মা নদীতে ডুবে যাওয়া যাত্রীবাহী বাসটি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে

৫১ মিনিট আগে

পড়ার সময়: ৩ মিনিট

পদ্মায় ডুবে যাওয়া সৌহার্দ্য পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসটি ঘটনার সাড়ে ছয় ঘণ্টারও বেশি সময় পর নদীতে পানির ওপরে দৃশ্যমান করা সম্ভব হয়েছে বলে দমকল বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তারা বলছেন, বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাসটিকে নদীর ৬০ ফুট নিচে থেকে টেনে পানির ওপরে আনা সম্ভব হয়।

কর্মকর্তারা আরও জানান, বাসটি পানির ওপর তোলার পর দুজন নারীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চলছিল। বুধবার বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি নদীতে পড়ে যায়।

রাজবাড়ী জেলার এসপি মোহাম্মদ মঞ্জুর মোরশেদ আজ বুধবার রাত ১০টার দিকে বিবিসিকে জানিয়েছেন, "বাসের উপরের অংশ ৫০ ফুট পানির নীচে । আর নীচের অংশ আরও ১০ ফুট নীচে।"

এদিন সন্ধ্যার পর থেকেই গোয়ালন্দে ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়েছে। তাই, চলমান প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধার কাজ ব্যাহত বলেও জানিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

এর আগে, রাত সাড়ে ৯টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহজাহান শিকদারও বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, উদ্ধারকারী জাহাজ হামজার সাথে বাসটিকে রশি দিয়ে বেঁধে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ঝড়বৃষ্টির কারণে উদ্ধারকাজ বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে।

বাসডুবির ঘটনায় দিন গড়িয়ে রাত হলেও স্বজনদের অপেক্ষা থামছে না।

ছবির উৎস, মীর সামসুজ্জামান সৌরভ

ছবির ক্যাপশান,

বাসডুবির ঘটনায় দিন গড়িয়ে রাত হলেও স্বজনদের অপেক্ষা থামছে না।

ফেরীঘাটে উৎসুক জনতা ও স্বজনদের ভীড়

বাসটি ডুবে যাওয়ার খবরটি যখন সামনে আসে, তখন থেকেই কয়েকজনের সাঁতরে বেঁচে ফেরার কথা শোনা যাচ্ছিলো স্থানীয় গণমাধ্যমে ও স্থানীয় সাংবাদিকদের মুখে।

সে বিষয়ে মঞ্জুর মোরশেদ বিবিসি বাংলাকে জানান, বাসটি ডুবে যাওয়ার সময় ৬-৭ জন সাঁতরে পার হয়ে গিয়েছিলো। ধারণা করা হচ্ছে তারা বেঁচে গেছেন।

"তবে সে সময় আরও চারজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের হাসপাতালে নেওয়া হলে দুইজন হাসপাতালেই মারা গেছেন। আরেকজন চিকিৎসাধীন আছেন। আর এদের তিনজনই নারী।"

আরেকজন উদ্ধারকৃত প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন বলেও নিশ্চিত করেন তিনি।

বাসডুবির ঘটনায় দিন গড়িয়ে রাত হলেও স্বজনদের অপেক্ষা থামছে না।

তারা ফেরীঘাটে ভীড় করছেন, প্রিয়জনের জন্য আহাজারি করছেন।

উদ্ধারকারী জাহাজ হামজার সাথে বাসটিকে রশি দিয়ে বেঁধে দেওয়া হয়েছে

ছবির উৎস, মীর সামসুজ্জামান সৌরভ

ছবির ক্যাপশান,

উদ্ধারকারী জাহাজ হামজার সাথে বাসটিকে রশি দিয়ে বেঁধে দেওয়া হয়েছে

কী ঘটেছিলো, সর্বশেষ অবস্থা কী

এদিকে, দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিবহনের ঘাট তত্ত্বাবধায়ক মো. মনির হোসেন বিবিসি বাংলাকে জানান, ডুবে যাওয়া বাসটিতে নারী-শিশুসহ প্রায় ৫০ জন যাত্রী ছিল।

বিকেলে কী ঘটেছিলো জানতে চাইলে তিনি জানান, বাসটি কুমারখালী থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলো। বাসটি তিন নম্বর ঘাটে ফেরির জন্য অপেক্ষা করছিলো।

"কিন্তু সোয়া পাঁচটার দিকে 'হাসনা হেনা' নামের একটি ইউটিলিটি (ছোট) ফেরি এসে জোরে পন্টুনে আঘাত করে। এ সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়।"

উল্লেখ্য, আজ রাত পৌনে ১০টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের ডিউটি অফিসার রাকিবুল হাসান বিবিসি বাংলাকে বলেন, ফরিদপুর ও আরিচা থেকে ফায়ার সার্ভিসের দু'টো ডুবুরি ইউনিট উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে এবং ঢাকার সিদ্দিকবাজার থেকে আরও দু'টো ডুবুরি ইউনিট দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের দিকে যাচ্ছে। তাদের কিছুক্ষণের মাঝে পৌঁছানোর কথা।

এর আগে সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটের দিকে ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের ইন্সপেক্টর মো. আনোয়ারুল ইসলাম বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, বাসটি ডুবে যাওয়ার খবর ফায়ার সার্ভিসের কাছে আসে ৫টা ২০ মিনিটে। এর ছয় মিনিটের মাথায় গোয়ালন্দ থেকে একটি ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এরপর আরিচা থেকে একটি দল সেখানে যোগ দেয়। সেই হিসেবে দুই ইউনিট মিলে আনুমানিক ১৫-২০ জনের একটি দল উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews