শরীয়তপুর সদর উপজেলায় স্কুল ফিডিং প্রকল্পের আওতায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে ডিম, কলা, রুটি, বিস্কুট ও দুধ বিতরণ কার্যক্রম শুরু হলেও খাবারের মান নিয়ে উঠেছে ব্যাপক অভিযোগ।
শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অভিযোগ, কার্যক্রমের শুরুতে খাবারের মান সন্তোষজনক থাকলেও কয়েক সপ্তাহ যেতে না যেতেই নিম্নমানের, অস্বাস্থ্যকর এমনকি পঁচা খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে শরীয়তপুর সদর উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর ১৭ হাজার ৫২২ জন শিক্ষার্থীর মাঝে এ খাদ্য বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়। সরকারের এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করা এবং বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বৃদ্ধি করা। তবে সম্প্রতি সদর উপজেলার ৫৬ নং পালং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে বিষয়টি নিয়ে অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, শিক্ষার্থীদের মাঝে পঁচা ডিম, নিম্নমানের রুটি ও কলা বিতরণ করা হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী খাবার খেতে গিয়ে অস্বস্তিবোধ করলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ খাবার বিতরণ বন্ধ রাখে। পরে কিছু খাবার ফেলে দেওয়া হয় বলে জানান বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।
ভুক্তভোগী কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, খাবার থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল এবং খাওয়ার পর অনেকের পেটে ব্যথা ও বমিভাব দেখা দেয়।
বিদ্যালয়ের পাঁচজন সহকারী শিক্ষক বলেন, কোমলমতি শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে সরকার একটি মহৎ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। কিন্তু কিছু অসাধু ব্যক্তি নিম্নমানের ও অস্বাস্থ্যকর খাবার সরবরাহ করে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে। তারা জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত খাবার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
৫৬ নং পালং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাসনে হেনা বলেন, “আমাদের বিদ্যালয়ে প্রায় সাড়ে ৪০০ শিক্ষার্থী রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৩৬৩ জন শিক্ষার্থী খাবার পায়। তাও অনেক সময় পঁচা ও অস্বাস্থ্যকর খাবার দেওয়া হয়। বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য আমরা সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
এ বিষয়ে অভিভাবকরাও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শিশুদের স্বাস্থ্য নিয়ে কোনো ধরনের অবহেলা মেনে নেওয়া যায় না। দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
বিডি প্রতিদিন/নাজিম