ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর থেকেই ভয়ংকর বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরই মধ্যে ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদ দখল করে বিক্রি শুরু করে দিয়েছেন তিনি। ইরানের সরকার উৎখাতের জন্য সাম্প্রতিক বিক্ষোভেও তার প্রত্যক্ষ মদদের বিষয়টি অনেকটাই প্রকাশ্য। অন্যদিকে ইউরোপের দেশ ডেনমার্কের অধীনে থাকা গ্রিনল্যান্ড দখলেও বদ্ধপরিকর তিনি। এমনকি এক্ষেত্রে ন্যাটোকেও তোয়াক্কা করছেন না ট্রাম্প; বলছেন, যে কোনও উপায়ে গ্রিনল্যান্ড তার চাই।
বিজ্ঞাপনএরই মধ্যে প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর বিশাল এ ভূখণ্ড দখলে ডজনখানেক হুমকি দিয়েছেন বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। হঠাৎ বেপরোয়া ট্রাম্পকে রুখতে এরই মধ্যে ডেনমার্কের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে কয়েক দফায় দেওয়া হয়েছে পাল্টা হুমকি; ডেনমার্কের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোভুক্ত বেশ কয়েকটি দেশ।
এ অবস্থায় এবার বিরোধীদের ওপর নিজের ‘সবচেয়ে প্রিয় অস্ত্র’ ব্যবহারের হুমকি দিয়ে বসেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প; ঘোষণা করেছেন, গ্রিনল্যান্ড দখলের ক্ষেত্রে যে বা যারাই বিরোধীতা করবে, তাদের ওপর বড় ধরনের শুল্ক আরোপ করবেন তিনি।
বিজ্ঞাপনশুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক বৈঠকে এ ঘোষণা দেন ট্রাম্প। খবর এনডিটিভির।
মার্কিন বর্তমান প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘দেশগুলো গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একমত না হলে তিনি তাদের ওপর শুল্ক বসাতে পারি। কারণ, জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গ্রিনল্যান্ড আমাদের প্রয়োজন।’
বিজ্ঞাপনতবে, কোন কোন দেশের ওপর এই নতুন শুল্কারোপ করা হতে পারে অথবা নিজের লক্ষ্য অর্জনে আমদানির ওপর এমন কর বসাতে কোন আইনি ক্ষমতা ব্যবহার করবেন, সে বিষয়ে ট্রাম্প বিস্তারিত কিছু বলেননি।
ভেনিজুয়েলার ঘটনা টেনে ট্রাম্প ডেনমার্ককে কার্যত হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রয়োজনে শক্তির পথেও যেতে পারে ওয়াশিংটন। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থেই গ্রিনল্যান্ড আমাদের প্রয়োজন। রাশিয়া বা চীন যদি গ্রিনল্যান্ড দখল করতে চায় তবে ডেনমার্কের কিছুই করার থাকবে না। কিন্তু আমাদের পক্ষে সবকিছুই করা সম্ভব। ভেনিজুয়েলার ঘটনাতেই আপনারা তার প্রমাণ পেয়েছেন, আমরা কি করতে পারি।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির জবাবে এরই মধ্যে গ্রিনল্যান্ডে সেনা মোতায়েন করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। স্থানীয় সময় শুক্রবার গ্রিনল্যান্ডে পৌঁছান জার্মানিসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সামরিক সদস্যরা। ডেনমার্কের অনুরোধে চলতি সপ্তাহে সীমিত সংখ্যক সেনা মোতায়েন করেছে ইউরোপীয় দেশগুলো। আর উত্তেজনা কমাতে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস সদস্যরা।
স্থানীয় সময় শুক্রবার ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গ্রিনল্যান্ড বিষয়ক মার্কিন বিশেষ দূত জেফ ল্যান্ড্রি বলেন, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের মধ্যে চুক্তি হওয়া উচিত এবং শেষ পর্যন্ত তা হবেও।
ট্রাম্প ইতোমধ্যে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত করবেন। আগামী মার্চে গ্রিনল্যান্ড সফরের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক হস্তক্ষেপ করলে তা হবে একটি ‘রাজনৈতিক বিপর্যয়’, এমন সতর্কবার্তা দিলেও পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক জানান, ইউরোপীয় দেশগুলোর সেনা মোতায়েনে অংশ নেবে না তার দেশ। পোল্যান্ডের এই সিদ্ধান্তে নতুন করে ন্যাটোর ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
আরটিভি/এসএইচএম