মুক্তিযুদ্ধের পর ভুয়া সার্টিফিকেটধারীদের দাপট দেখে নিজের অরিজিনাল সার্টিফিকেটটি ছিঁড়ে ফেলেছিলেন বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৩ আসনের সরকারি দলের সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। কারণ হিসেবে তিনি জানান, যুদ্ধের বিনিময়ে কিছু প্রত্যাশা করেননি তিনি।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ বক্তব্য দেন।
তিনি বলেন, যুদ্ধের পর এক মেয়ে মুক্তিযোদ্ধার সনদ নিয়ে কলেজে ভর্তি হতে এলো, যার বাবা ছিল একজন কোলাবোরেটর (রাজাকার)। সেই দৃশ্য দেখে আমি ঘৃণাভরে নিজের সনদ ছিঁড়ে ফেলেছিলাম। আমি মুক্তিযুদ্ধের বিনিময়ে কিছু পাওয়ার আশা করি না।
আরও পড়ুন
আরও পড়ুন ছাত্রদলের একযোগে ২৯ কমিটি ঘোষণা

নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের কথা তুলে ধরে গয়েশ্বর বলেন, বিএনপি প্রতিষ্ঠার সেই মাহেন্দ্রক্ষণে রমনার বটমূলে আমি একমাত্র সাক্ষী হিসেবে আজও বেঁচে আছি। শহীদ জিয়া ১৮ মিনিটের মধ্যে বিএনপির ঘোষণা করেছিলেন। সেই কৃতজ্ঞতা শুধু মুখে উচ্চারণ করলে হবে না, তাদের আদর্শের পথে চলেই তা প্রমাণ করতে হবে।
জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান প্রসঙ্গে বিএনপির এ সংসদ সদস্য বলেন, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন যখন শুরু হয়, তখন তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি দ্রুততম সময়ে এই আন্দোলনকে নৈতিক ও সর্বাত্মক সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এটি কোনো একক দলের অর্জন নয়, বরং প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে স্কুলপড়ুয়া কিশোর-কিশোরী এবং বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের সকল স্তরের মানুষের সম্মিলিত ত্যাগের ফসল। যারা আজ সংসদে আছেন তাদের পাশাপাশি অসংখ্য সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক কর্মী এই ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশের জন্য লড়াই করেছেন।