যুক্তরাষ্ট্রের সাজাপ্রাপ্ত যৌন নিপীড়নকারী জেফরি এপস্টিন সম্পর্কে আদালতের প্রকাশিত নতুন নথি ও বিভিন্ন প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। সেইসব নথিতে দাবি করা হয়েছে, এপস্টিন ফ্যাশন ও মডেলিং ইন্ডাস্ট্রির কিছু ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক ব্যবহার করে সুন্দরী তরুণী ও কিশোরীদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতেন।

এনিয়ে সিএনএন জানিয়েছে, এপস্টিন কিছু মডেলিং স্কাউট ও এজেন্টের মাধ্যমে তরুণীদের কাছে ‘মডেলিং কাজের সুযোগ’ ও ‘ক্যারিয়ার উন্নতির প্রতিশ্রুতি’ দিয়ে তাদের আকৃষ্ট করতেন।

নতুন প্রকাশিত বার্তা ও অভিযোগ

নথিতে দেখা যায়, কিছু স্কাউট ও রিক্রুটার এপস্টিনকে বিভিন্ন তরুণীর বিষয়ে বার্তা পাঠাতেন, যেখানে ১৬ ও ১৭ বছর বয়সী স্ক্যান্ডিনেভিয়ান মেয়েদের ভবিষ্যতে দেখা করার জন্য প্রস্তুত থাকার কথা বলা হয়।

অন্য বার্তায় এক তরুণীকে ‘ভ্রমণে প্রস্তুত’ এবং আরেকজনকে ‘উপহার’ হিসেবে উল্লেখ করার কথাও পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মডেলিং ইন্ডাস্ট্রির অন্তত ছয়জন ব্যক্তি নিয়মিতভাবে মডেলদের এপস্টিনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতেন।
মডেলিং ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে আর্থিক ও পেশাগত সম্পর্কিত নথি অনুযায়ী, এপস্টিন কিছু মডেলিং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অর্থ, ব্যবসায়িক যোগাযোগ এবং যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা সহায়তা প্রদান করতেন। এর বিনিময়ে কিছু ব্যক্তি তাকে মডেলদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

২০০৫ সালের দিকে এপস্টিন ফরাসি মডেলিং এজেন্ট জঁ-লুক ব্রুনেল’কে ১০ লাখ ডলারের ক্রেডিট লাইন দেন, যা দিয়ে পরে একটি মডেলিং সংস্থা প্রতিষ্ঠা করা হয়।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতিক্রিয়া ও অভিযোগ

কিছু নারী তদন্তকারীদের পরবর্তীতে জানান, এপস্টিন তাদের দিয়ে যৌন নির্যাতন করেছেন। অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তি দাবি করেছেন, তারা এপস্টিনের অপরাধমূলক আচরণ সম্পর্কে জানতেন না এবং তাকে বৈধ ব্যবসায়ী হিসেবেই দেখতেন।

আরেকজন পরিচিত মধ্যস্থতাকারী ড্যানিয়েল বলেছেন, তিনি এপস্টিনকে ‘চতুর ব্যক্তি’ হিসেবে দেখতেন, যিনি তার প্রকৃত উদ্দেশ্য আড়াল করতেন।

১৯৯৭ সালের মার্কিন পুলিশ প্রতিবেদনে বলা হয়, এক নারী অভিযোগ করেছেন যে এপস্টিন তাকে পোশাক খুলতে বলেন এবং অশোভনভাবে স্পর্শ করেন। তবে ওই ঘটনায় তখন কোনো অভিযোগ গঠন করা হয়নি। পরবর্তী বছরগুলোতেও এপস্টিনের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ সামনে আসে। ভুক্তভোগীদের একজন বলেন, মডেলিং ক্যারিয়ার গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাকে প্রতারিত করা হয়েছিল।

মৃত্যু ও চলমান বিতর্ক
এপস্টিন ২০১৯ সালের ১০ আগস্ট নিউইয়র্কের মেট্রোপলিটন কারেকশনাল সেন্টারে বন্দি অবস্থায় মারা যান। তিনি নাবালিকা যৌন পাচার সংক্রান্ত ফেডারেল মামলায় বিচারের অপেক্ষায় ছিলেন।

তার দীর্ঘদিনের আর্থিক সহযোগী লেস ওয়েক্সনারের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়েও অতীতে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে, বিশেষ করে তার আর্থিক লেনদেন ও ব্যবসায়িক প্রভাব নিয়ে।
সিএনএন জানিয়েছে, এই নথিগুলো আবারও এপস্টিনের নেটওয়ার্ক, মডেলিং ইন্ডাস্ট্রির কিছু অংশের ভূমিকা এবং অভিযোগগুলোর জটিলতা নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews