ভারতের মহারাষ্ট্রের নাসিকে ধর্মের আড়ালে এক বীভৎস যৌন সাম্রাজ্য ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের পর্দা ফাঁস হয়েছে। নৌবাহিনীর চাকরি ছেড়ে ‘আধ্যাত্মিক গুরু’ বনে যাওয়া অশোক খরাত নামের এক ভণ্ড বাবার লালসার শিকার হয়েছেন সমাজের প্রভাবশালী ও উচ্চবিত্ত পরিবারের অগণিত নারী।



ভয়ের রাজত্ব কায়েম করে নারীদের ধর্ষণ, জোরপূর্বক গর্ভপাত ও ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগে অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন এই স্বঘোষিত ধর্মগুরু। তদন্তে নেমে পুলিশ অশোকের শিষ্যের মোবাইল থেকে ৫৮টি আপত্তিকর ভিডিও উদ্ধার করেছে, যা নিয়ে গোটা ভারতে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।



যেভাবে গড়ে ওঠে এই ‘পাপের আখড়া’

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অশোক খরাত একসময় ভারতীয় নৌবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। সেখান থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর তিনি একটি আশ্রম গড়ে তোলেন। নিজেকে আধ্যাত্মিক ক্ষমতার অধিকারী দাবি করে তিনি অল্প দিনেই প্রভাবশালী মহলে আধিপত্য বিস্তার করেন। বিশেষ করে মহিলাদের ভাগ্য গণনা এবং আধ্যাত্মিক চিকিৎসার নামে তিনি তাদের সাথে ঘনিষ্ঠ হতেন।



অশোকের প্রতারণার কৌশল ছিল অত্যন্ত ভয়ংকর। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ভক্ত নারীদের মানসিকভাবে দুর্বল করতে তাদের স্বামী বা সন্তানদের ওপর অমঙ্গল ও অকাল মৃত্যুর ভয় দেখাতেন। এই ‘অভিশাপ’ থেকে মুক্তির উপায় হিসেবে তিনি নারীদের সাথে ‘শারীরিক যোগব্যায়াম’ তথা যৌন সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করতেন। তথাকথিত ধর্মীয় আচারের নামে ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে অনেক নারীকে তিনি মানসিকভাবে পঙ্গু করে দিয়ে বারবার ধর্ষণ করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে বেরিয়ে এসেছে।



প্রভাবশালী মহলে ভণ্ড বাবার থাবা

উদ্ধারকৃত ভিডিওগুলোতে দেখা গেছে, কেবল সাধারণ মানুষই নয়, বরং আইপিএস, আইএএস অফিসার এবং শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের পরিবারের সদস্যরাও এই ভণ্ড বাবার লালসার শিকার হয়েছেন। এমনকি মহারাষ্ট্রের রাজ্য মহিলা কমিশনের বর্তমান চেয়ারপার্সন রূপালী চাকনকরের একটি ভিডিও প্রকাশ পাওয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চরম বিতর্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে তাঁকে এই ভণ্ড বাবার পা ধুয়ে দিতে দেখা গেছে।



নাসিক পুলিশ জানিয়েছে, অশোকের বিরুদ্ধে কেবল ধর্ষণই নয়, বরং অন্তঃসত্ত্বা মহিলার ওপর যৌন নির্যাতন এবং জোরপূর্বক গর্ভপাত করানোর মতো গুরুতর অভিযোগ জমা পড়েছে। এমনকি তাঁর অপকর্মের প্রতিবাদ করায় খুনের হুমকি ও তোলাবাজির অভিযোগও রয়েছে। এক ভুক্তভোগী নারীর আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করলে তিনি সাহসের সাথে পুলিশের দ্বারস্থ হন। এরপরই কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরিয়ে আসে।



অন্ধবিশ্বাসের করুণ পরিণতি

তদন্ত শুরু হওয়ার মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যে পুলিশের কাছে ৫০টিরও বেশি অভিযোগের ফোন এসেছে। ‘নিরু’ ও ‘দীপিকা’ (ছদ্মনাম) নামক দুই ভুক্তভোগী জানিয়েছেন, কীভাবে চিকিৎসার নামে বা মন্দিরে নিয়ে গিয়ে তাদের শ্লীলতাহানি করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যদের অন্ধবিশ্বাসের কারণে নির্যাতিতারা মুখ খোলার সাহস পাননি।নিরু কৌশলে সেখান থেকে পালিয়ে বাঁচেন। কিন্তু বাড়ি ফিরে যখন তিনি তাঁর মাকে সব জানান, তখন বাড়ির লোকেদের নীরবতা তাঁকে সবচেয়ে বেশি অবাক করেছিল। ১০ বছর কেটে গেলেও আজও সেই স্মৃতি তাঁকে তাড়া করে বেড়ায়, ভিড়ের মধ্যে গেলেই তিনি আতঙ্কে কেঁপে ওঠেন।



দীপিকার অভিজ্ঞতাও ভয়াবহ। ২৯ বছর বয়সে দীপিকার বাবা তাঁকে এক ‘শিষ্য’ বাবার কাছে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসার নামে ঘরের দরজা বন্ধ করে তাঁর শ্লীলতাহানি করা হয়। বাইরে বাবা বসে থাকা সত্ত্বেও সেই ভণ্ড ব্যক্তি কোনও ভয় পায়নি। দীপিকা এতটাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন যে, পরে নিজেকে সুস্থ বলে দাবি করেন যাতে আর কোনওদিন সেখানে যেতে না হয়।



সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, মানুষের অসহায়ত্ব এবং অলৌকিক ক্ষমতার প্রতি অন্ধবিশ্বাসই এই ধরনের ‘গডম্যান’ বা ভণ্ড বাবাদের উত্থানের মূল কারণ। নাসিকের এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল যে, ধর্মের লেবাসধারী এই নরপশুরা সমাজের জন্য কতটা বিপজ্জনক।



বর্তমানে অভিযুক্ত অশোক খরাত ও তার সহযোগীরা পুলিশি হেফাজতে রয়েছে এবং উদ্ধারকৃত ভিডিওগুলোর সূত্র ধরে আরও বড় কোনো চক্র জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছে মহারাষ্ট্র পুলিশ। 



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews