ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, তেল আবিব যদি সময়মতো সামরিক অভিযান না চালাত তবে ইরান এতক্ষণে পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্রে পরিণত হতো।
গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার নেপথ্য কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন যে, তেহরান তখন পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চূড়ান্ত পর্যায়ের পাশাপাশি হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জনের খুব কাছাকাছি ছিল।
নেতানিয়াহুর ভাষ্যমতে, গত বছর ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো নিশ্চিত তথ্য পায় যে ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামকে পারমাণবিক অস্ত্রে রূপান্তরের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই ইসরায়েল তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
পরবর্তীতে ইসরায়েল আরও জানতে পারে যে ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক প্রকল্পগুলো ব্যাপকভাবে সম্প্রসারণের পাশাপাশি মাটির অনেক গভীরে লুকিয়ে ফেলার পরিকল্পনা করছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে পরিচালিত 'অপারেশন রোয়ারিং লায়ন'-এর মাধ্যমে ইসরায়েল ইরানের অস্ত্র তৈরিতে যুক্ত আটজন পরমাণু বিজ্ঞানীকে হত্যা এবং আরাকের ভারী পানি চুল্লিসহ দেশটির সেন্ট্রিফিউজ উৎপাদন কেন্দ্র ও ইউরেনিয়াম লাইনগুলো ধ্বংস করার দাবি করেছে। নেতানিয়াহু বলেন, এই অভিযানের ফলে ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়ে গেছে।
পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংসের পাশাপাশি ইসরায়েলের লক্ষ্য ছিল ইরানি শাসকগোষ্ঠীকে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর সবচাইতে দুর্বল অবস্থানে নামিয়ে আনা। নেতানিয়াহু দাবি করেন, ইসরায়েল এই লক্ষ্য অর্জনে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছে এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান যুদ্ধবিরতির জন্য আকুতি জানাচ্ছে। তার মতে, ইরানের নেতৃত্বের ভেতর এখন চরম অন্তর্দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে এবং সাধারণ জনগণের চাহিদা মেটাতে ব্যর্থ হয়ে দেশটি এক চরম সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
যদিও ইরান বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল
বিডি প্রতিদিন/নাজমুল