সংবিধানের গতানুগতিক সংশোধন নয়, বরং জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও গণভোটের মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণ একটি মৌলিক সংবিধান সংস্কারের পক্ষে স্পষ্ট ম্যান্ডেট দিয়েছে। কিন্তু সেই ঐতিহাসিক জনরায় উপেক্ষা করে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠন না করে প্রচলিত সংশোধনী প্রক্রিয়ার পথে হাঁটার মাধ্যমে সরকার গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়া প্রায় ৫ কোটি মানুষের সঙ্গে রাজনৈতিক প্রতারণা করেছে বলে অভিযোগ করেছে জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টি (জেডিপি)।
বুধবার (১৫ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে জেডিপির আহ্বায়ক নাঈম আহমাদ এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি রাজনৈতিক প্রতারণার এক নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। অতীতে নির্বাচন নিয়ে নানা অনিয়মের নজির থাকলেও, গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ও গণভোটে জনগণের প্রত্যক্ষ রায় বাস্তবায়নে প্রকাশ্য অস্বীকৃতির এমন উদাহরণ আগে দেখা যায়নি।
নাঈম আহমাদ বলেন, সরকার শুধু জনগণের প্রত্যাশাই ভঙ্গ করেনি, নিজেদের দেওয়া প্রতিশ্রুতিও অস্বীকার করেছে। সরকারি দলের নেতাদের কেউ কেউ এখন সংসদে দাঁড়িয়ে বলছেন, সংবিধান সংস্কারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য নয়, বরং নির্বাচনে জয়ী হওয়ার কৌশল হিসেবে দেওয়া হয়েছিল। এ ধরনের বক্তব্য রাজনৈতিক প্রতারণার প্রকাশ্য স্বীকারোক্তির শামিল। সে অর্থে বিএনপি আজ স্বঘোষিত প্রতারক দলে পরিণত হয়েছে। এ ধরনের দম্ভ ও প্রতারণা গণতান্ত্রিক রাজনীতিকে অত্যন্ত বিপজ্জনক পর্যায়ে নিয়ে যাবে এবং দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্র ও জাতির জন্য অপূরণীয় ক্ষতির কারণ হবে।
জেডিপি অবিলম্বে এই আত্মঘাতী প্রক্রিয়া থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান, গণভোটের ম্যান্ডেট এবং ১৮০ দিনের সময়সীমার বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী একটি স্বাধীন ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠনের জোর দাবি জানায় দলটির আহ্বায়ক।
বিবৃতিতে আরো সতর্ক করে বলা হয়, সরকার যদি জনগণের এই সুস্পষ্ট ম্যান্ডেট উপেক্ষা করে সুবিধাবাদী পথে অগ্রসর হয়, তবে ভবিষ্যতে সৃষ্ট যেকোনো দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক বা সাংবিধানিক সংকটের সম্পূর্ণ দায়দায়িত্ব সরকারকেই বহন করতে হবে।