ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট ইনাসিও লুলা দ্য সিলভা বলেছেন, ভেনিজুয়েলার ভূখ-ে আমেরিকার বোমা হামলা এবং ৩ জানুয়ারী দেশটির প্রেসিডেন্টকে আটক করা আন্তর্জাতিক আইন এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রতিষ্ঠিত বহুপাক্ষিক শৃঙ্খলার ক্রমাগত পতনের আরেকটি দু:খজনক অধ্যায়। রবিবার দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসে লেখা একটি নিবন্ধে তিনি একথা বলেন।
লুলা তার নিবন্ধে বলেন, ‘বছরের পর বছর ধরে প্রধান শক্তিগুলো জাতিসংঘ এবং এর নিরাপত্তা পরিষদের কর্তৃত্বের তাদের উপর আক্রমণকে আরও তীব্র করেছে। যখন বিরোধ সমাধানের জন্য শক্তির ব্যবহার ব্যতিক্রম হিসাবে বন্ধ হয়ে নিয়মে পরিণত হয়, তখন বিশ্বব্যাপী শান্তি, নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীলতা বিপন্ন হয়। যদি কেবল নিয়মগুলো শুধুমাত্র পক্ষপাতিত্ব অনুসরণ করে মানা হয়, তাহলে বৈষম্য শুরু হয় এবং কেবল পৃথক একটি রাষ্ট্রকেই নয় বরং সমগ্র আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দেয়।’
লুলা জোর দিয়ে বলেছেন যে, অন্য কোনো রাষ্ট্রের নিজস্ব বিষয়ে প্রধান শক্তিগুলোর গায়ের জোরে বিচার প্রদান করার অধিকার দাবি করা বৈধ নয়। একতরফা পদক্ষেপ বিশ্বব্যাপী স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলে, বাণিজ্য ও বিনিয়োগকে বিঘিœত করে, শরণার্থী প্রবাহ বৃদ্ধি করে এবং রাষ্ট্রগুলোর সংগঠিত অপরাধ ও অন্যান্য আন্ত:সীমান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার সক্ষমতাকে দুর্বল করে।
লুলা বিশেষ উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, লাতিন আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলে এই ধরণের অনুশীলন চলছে। এগুলো বিশ্বের এমন একটি অংশে সহিংসতা এবং অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করছে, যেখানে রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌম সমতার মাধ্যমে শান্তির জন্য, বহির্শক্তির বলপ্রয়োগ প্রত্যাখ্যান ও জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার রক্ষায় প্রতিশ্রুত।
সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর নজিরবিহীন প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করে লুলা বলেন, ‘স্বাধীনতার ২শ’ বছরের বেশি ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আমেরিকা আমেরিকার সরাসরি সামরিক আক্রমণের শিকার হয়েছে, যদিও মর্কিন বাহিনী পূর্বেও এই অঞ্চলে হস্তক্ষেপ করেছে।’
লুল জোর দিয়ে বলেন যে, লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান দেশগুলোর নিজেদের স্বার্থ ও স্বপ্ন রক্ষার অধিকার রয়েছে এবং একটি বহুমেরু বিশ্বে, সার্বজনীনতা অর্জনের উদ্দেশ্যে কোনও দেশের বৈদেশিক সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তোলা উচিত নয়। তিনি বলেন, ‘আমরা আধিপত্যবাদী প্রচেষ্টার অধীনস্থ হব না।’
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট সতর্ক করে বলেছেন, ‘ইতিহাস দেখিয়েছে যে, বলপ্রয়োগ কখনই আমাদের এই লক্ষ্যগুলোর কাছাকাছি নিয়ে যাবে না এবং বিশ্বকে প্রভাবশালী অঞ্চলে বিভক্ত করা এবং কৌশলগত সম্পদের জন্য নব্য উপনিবেশবাদী আক্রমণগুলো পুরানোই এবং ক্ষতিকারক। বৃহৎ শক্তিগুলোর নেতাদের বোঝা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে, স্থায়ী শত্রুতার একটি বিশ্ব কার্যকর নয়।
এই বিশে^র ওপর সমস্ত জাতির সমান অধিকার রয়েছে ইঙ্গিত করে লুলা তার নিবন্ধের উপসংহারে বলেন, ‘সেই শক্তিগুলি যত শক্তিশালীই হোক না কেন, তারা কেবল ভীতি প্রদর্শন এবং জবরদস্তির উপর নির্ভর করতে পারে না। শুধুমাত্র একসাথে আমরা সেই চ্যালেঞ্জগুলো অতিক্রম করতে পারি, যেগুলো এই গোলার্ধকে পীড়িত করে, যা আমাদের সবার।’