আগামী ২৩ এপ্রিল ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তরবঙ্গ থেকে শুরু হচ্ছে রাজ্য বিধানসভার নির্বাচন। এই পর্বে রাজ্যটির উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গ মিলিয়ে ১৫২ টি আসনে ভোট নেওয়া হবে।

দ্বিতীয় দফায় কেবল দক্ষিণবঙ্গের ১৪২ টি আসনে ভোট নেওয়া হবে। তার আগে উত্তরবঙ্গ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করতে চলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রবিবার (৫ এপ্রিল) উত্তরবঙ্গের কোচবিহার জেলার রাসমেলা ময়দানে নির্বাচনী জনসভায় উপস্থিত থাকবেন তিনি।

নির্বাচনের তফশিল প্রকাশ করার পর এই প্রথম নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিতে চলেছেন নরেন্দ্র মোদি। বিজেপির লক্ষ্য প্রায় দেড় লক্ষাধিক মানুষের জমায়েত করা। মূলত প্রধানমন্ত্রীকে দিয়েই রাজ্যজুড়ে এই হাই-ভোল্টেজ নির্বাচন ও দ্বিস্তরীয় প্রচারণার কাজ শুরু করতে চায় কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি।

প্রথম দফার নির্বাচন শুরু হতে এখনো বাকি তিন সপ্তাহের বেশি সময় বাকি রয়েছে। ফলে নির্বাচনে প্রচারণায় কোনও রকম খামতি রাখতে চাইছে না গেরুয়া শিবির। মোদির পাশাপাশি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং, দলের সভাপতি নীতিন নবীন, সাবেক সভাপতি জয়প্রকাশ নাড্ডা, কেন্দ্রীয় নেতা মিঠুন চক্রবর্তীসহ দলের শীর্ষ নেতৃত্ব তো প্রচারণায় থাকবেনই। সেই সঙ্গে তারকা প্রচারকদেরও প্রচারণার কাজে যুক্ত করে ভোটারদের কাছে টানার প্রচেষ্টা হবে। পাশাপাশি রাজ্যটির বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, দিলীপ ঘোষ, বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যসহ রাজ্যস্তরের শীর্ষ নেতারাও অন্য প্রার্থীদের সমর্থনে প্রচারণায় দেখা যেতে পারে। 

গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী কেন্দ্রগুলিতে ভোটারদের সঙ্গে নিজেদের সংযোগকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে ব্যাপক প্রচারণা পরিকল্পনা নিয়েছে– যার মধ্যে রয়েছে র‍্যালি, রোড-শো, জনসভা এবং ডোর-টু-ডোর ভিজিট। 

পশ্চিমবঙ্গের এই নির্বাচনী প্রচারণার অভিযানে নেতৃত্ব দেবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সূত্রমতে, কমপক্ষে ১৪ টি কর্মসূচিতে তিনি অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। জনসভা ও রোড-শোর মাধ্যমে শহর ও গ্রামাঞ্চল- উভয় ক্ষেত্রেই নিজেদের সমর্থন ভিত্তি শক্ত করার পাশাপাশি সেখানে দলের প্রভাব বিস্তার করতে চায় বিজেপি শিবির। রোড-শো ও জনসভা মিলিয়ে মোট ৮ টি কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারেন।

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির নির্বাচনী কৌশলের অন্যতম প্রধান স্থপতি অমিত শাহ। ফলে রাজ্যটিতে দলের সংগঠনকে সচল করা ও বুথ পর্যায়ে দলের ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করার দিকে মনোযোগ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। যদিও বৃহস্পতিবার কলকাতার হাজরা মোড়ে একটি জনসভায় উপস্থিত ছিলেন শাহ এবং সেখান থেকেই  তৃণমূলকে নিশানা করে সোনার বাংলা গড়ার ডাক দেন।

জনসভা থেকে অমিত শাহের ঘোষণা 'পশ্চিমবঙ্গের ভোটে ১৫ দিন আমি এখানেই থাকবো। মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ নেব।' তার দাবি 'বিজেপি একের পর এক আসন জিতবে। ১৭০ এর গণ্ডি পেরোলেই পরিবর্তন নিশ্চিত। তাছাড়া শুভেন্দু অধিকারী কেবলমাত্র নন্দীগ্রামেই নয়, মমতার ঘরে ঢুকেও (ভবানীপুর) তাকে হারাতে পারে।' 

বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন ৭ টি জনসভা ও রোড শো- এ অংশ নিতে পারেন। দলের  সাবেক জাতীয় সভাপতি জয়প্রকাশ নাড্ডা ৬ টি জনসভায় অংশ নিতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে। সূত্রের বরাত দিয়ে সর্বভারতীয় কিছু গণমাধ্যম জানিয়েছে ,সমস্ত বিধানসভা কেন্দ্রগুলিতে বিজেপি নির্বাচনী সাফল্য পেতে চাইছে, মূলত সেসব নির্বাচনী এলাকাকে লক্ষ্য করেই বিজেপির এই নির্বাচনী কর্মসূচিগুলো আয়োজন করা হবে। 

হিন্দুত্ববাদী ও স্পষ্ট বক্তা হিসাবে পরিচিত উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ৮ টি কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। তারকা খ্যাতিকে কাজে লাগানোর লক্ষ্যে, অভিনেতা ও রাজনীতিবিদ মিঠুন চক্রবর্তী রাজ্যে প্রচারের শেষ দিন, অর্থাৎ ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত ১০টি কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাংলায় মিঠুনের জনপ্রিয়তা বিজেপির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে দেখা হচ্ছে, বিশেষ করে শহুরে এবং আধা-শহুরে নির্বাচনী কেন্দ্রগুলিতে। মূলত সেই জনপ্রিয়তাকেই কাজে লাগাতে চায় গেরুয়া শিবির। 

বিজেপি সূত্রে খবর, নির্বাচনী প্রচারণা পরিকল্পনাটি এমন সযত্নে সাজানো হয়েছে যে, যাতে যেসব কেন্দ্রে বিজেপি বরাবরই দুর্বল, সেখানেও ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেসকে শক্ত চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে বিজেপি। এ লক্ষ্যে জনসভা ছাড়াও অঞ্চলভিত্তিক মনোযোগ ও কর্মী সমাবেশের উপর জোর দিচ্ছে। 

সাম্প্রতিক বছরে এই উত্তরবঙ্গ বিজেপি শক্ত ঘাঁটি হিসেবে উঠে এসেছে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে উত্তরবঙ্গের ৫৪ টি আসনের মধ্যে ৩০ আসনে জয়লাভ করেছিল তারা। এর মধ্যে কোচবিহার জেলায় ৯ টি আসনের মধ্যে ৭ টিতে জয় পায়। যদিও ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে কোচবিহার আসনটিতে হেরে যায় বিজেপি। তবে উত্তরবঙ্গের ৮ টি লোকসভা কেন্দ্রের ৬টিতে জয়ী হয়েছিল তারা। 

তবে নির্বাচনী প্রচারণার নিরিখে বিজেপি থেকে কয়েক কদম এগিয়ে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। যে উত্তরবঙ্গ থেকে ভোট গ্রহণ শুরু, গত এক সপ্তাহ আগেই সেখান থেকে প্রচারণা শুরু করেছেন দলের প্রধান ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে প্রচারণা করে চলেছেন মমতার ভাতিজা ও দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জিও। এছাড়াও প্রার্থীদের সমর্থনে প্রচারে নেমেছেন দীপক অধিকারী(দেব), সৌমি তৃষা কুন্ডু'র মত টলিউডের বেশ কিছু শিল্পীও। 

বিডি প্রতিদিন/কামাল



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews