ইলিয়াসে এক ছিলেন তারা। মরতেও ছিলেন রাজি। সেই নেতারা একেক করে দূরে চলে গিয়ে ছিলেন। প্রেক্ষাপটও ছিল ভিন্ন। কিছুই করার ছিল না তাহসিনা রুশদীর লুনার। একেক করে নির্বাচন দাঁড়ালেন তারা। দল থেকে হলেন বহিষ্কার। কেউ পাস করেছিলেন, আবার কেউ কেউ দল ও ক্ষমতা দুটোই হারিয়েছিলেন। আদতে ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছিল বিএনপি। নেতাদের মধ্যে শুধু যে দূরত্ব বেড়েছিল তা নয়, একে অপরের প্রতিপক্ষ হিসেবেও দাঁড়িয়ে যান। সংঘর্ষেও জড়ান। নির্বাচনকে সামনে রেখে বিগত দিনের অনেক ভুলকে ক্ষমা করে দিয়েছে বিএনপি। দীর্ঘদিন দলের বাইরে থাকা নেতাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। কিন্তু এক হওয়া ছিল কঠিন। সেই দূরত্ব কমাতে এবার মধ্যস্থতায় এগিয়ে এলেন সিলেট বিএনপি’র নেতারা। সিলেট-২ আসনে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের পরও দ্বিধা-বিভক্তির বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। ফলে বৈঠকটি ছিল অনিবার্য। আর ওই বৈঠকে লুনার কাছে ফিরলেন দূরে থাকা বিএনপি নেতারা। এখন সিলেট-২ আসনে বিএনপি এক। কোনো বিরোধ বা বিভক্তি নেই। ধানের শীষের জন্য সবাই ঐক্যবদ্ধ। বৈঠকটি তৃণমূলে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। মেসেজ পৌঁছে গেছে এলাকায়। এতে করে শক্তি সঞ্চয় করেছে তৃণমূল নেতারা। গতি বেড়েছে প্রচারণায়। বদলে গেছে পরিবেশও। গতকাল দুপুরে সিলেটের লামাবাজারের একটি হোটেলে ওই বৈঠক হয়। বৈঠকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপি’র সভাপতি আব্দুল কাইয়ূম চৌধুরী।
সঙ্গে ছিলেন সিলেট-২ আসনে বিএনপি’র প্রার্থী তাহসিনা রুশদী লুনা। তিনি নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর স্ত্রী। বৈঠকে সিলেট-২ আসনে বিএনপি’র বিজয় নিশ্চিত করতে দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন সিলেট জেলা বিএনপি’র সভাপতি ও জেলার সকল সংসদীয় আসনের সমন্বয়ক জন আব্দুল কাইয়ূম চৌধুরী। তিনি জানান, দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে গণতন্ত্রের জন্য মানুষ প্রাণ দিয়েছে, গুমের শিকার হয়েছে, নির্যাতিত হয়েছে। কিন্তু মাথানত করেনি। তারেক রহমানের নেতৃত্বে আজ নতুন বাংলাদেশের পথে আমাদের যাত্রা শুরু হয়েছে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে বিএনপিকে দায়িত্বশীল, ঐক্যবদ্ধ ও সংগঠিত ভূমিকা রাখতে হবে। সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তাহসিনা রুশদীর লুনা। তিনি বলেন, এই আসনের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন ও অধিকার থেকে বঞ্চিত।
বিজ্ঞাপন
জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং বঞ্চনার অবসান ঘটাতে বিএনপি’র বিকল্প নেই। তিনি নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন- ঐক্য, সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করলে বিজয় অবশ্যই নিশ্চিত হবে। সমন্বয় সভায় উপস্থিত ছিলেন- জেলা বিএনপি’র উপদেষ্টা ময়নুল হক চৌধুরী, জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি ফখরুল ইসলাম ফারুক, জেলা বিএনপি’র যুগ্ম সম্পাদক এডভোকেট হাসান আহমদ পাটোয়ারী রিপন, উপজেলা চেয়ারম্যান আবদাল মিয়া, ইমরান রব্বানী, ব্যারিস্টার আবরার ইলিয়াস, সুহেল আহমদ চৌধুরী, ওসমানীনগর উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি এস.টি.এম. ফখর উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ মিছবাহ, বিশ্বনাথ উপজেলা বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গৌছ আলী ও সাধারণ সম্পাদক লিলু মিয়া, বিশ্বনাথের প্রবীণ নেতা সাবেক চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন, গয়াস মিয়া চেয়ারম্যান, ধলা মিয়া, রুহেল মিয়া চেয়ারম্যান, বিশ্বনাথ পৌর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক শামসুল ইসলামসহ উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ। সভায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় কৌশল, সাংগঠনিক প্রস্তুতি এবং মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম আরও জোরদার করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগর বিএনপি’র নেতারা জানান- ইলিয়াস আলীর গুমের পর উপজেলা, পৌর ও ইউনিয়ন নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে অনেক সিনিয়র নেতা দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন। এরা দীর্ঘদিন বিএনপি’র রাজনীতি করেছেন। পরবর্তীতে তারা দলচ্যুত হয়ে যাওয়া রাজনীতি থেকে ছিটকে পড়েন। তবে অন্য কোথাও তারা যাননি। দলের পদবি না থাকলেও তারা বিএনপি’র হয়েই এলাকায় সক্রিয় ছিলেন। দল তাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করার পর এখন এ আসনের অভিভাবক তাহসিনা রুশদী লুনাও তাদের কাছে টেনে নিয়েছেন।