বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে প্রথমবারের মতো সরকার গঠন করতে যাচ্ছে দেশটির ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। টানা তিন মেয়াদ ক্ষমতায় থাকা মমতা ব্যানার্জির তৃণমূল কংগ্রেসকে হারিয়ে এবারের লোকসভা নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে দলটি।
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির উত্থানে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে কী প্রভাব পড়তে পারে তা নিয়ে নানা মহলে আলোচনা চলছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, লোকসভা নির্বাচন ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। আমাদের সম্পর্ক দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে। ফলে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে কে সরকার গঠন করল, তাতে দুই দেশের সম্পর্কে কোনো প্রভাব পড়বে না। এ ব্যাপারে সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তবে এই রাজ্যের সঙ্গে আমাদের দীর্ঘ সীমান্ত থাকায় তাদের নির্বাচন নিয়ে আমাদের মধ্যে আগ্রহটা অনেক বেশি। কিন্তু একটা বিষয় মনে রাখা দরকার, আমরা ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে চলি। কোনো রাজ্য সরকারের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক নেই। ফলে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পট পরিবর্তনে দুই দেশের সম্পর্কে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন আসবে বলে আমি মনে করি না।
তিনি আরও বলেন, তবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার যদি সংবেদনশীল বিষয়গুলো নিয়ে অহেতুক নাড়াচাড়া করতে চায় তাহলে জটিলতা তৈরি হবে। আমার মনে হয়, এই ক্ষেত্রে বিজেপি অনেক সচেতন, তারা এই পথে হাঁটবে না। কেননা বাংলাদেশের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের ব্যবসাবাণিজ্য ও অর্থনীতির গভীর যোগসূত্র আছে। তারা যদি সরকার চালাতে চায়, জনগণের চাহিদা, কর্মসংস্থান, ব্যবসাবাণিজ্য ইত্যাদিকে চাঙা রাখতে চায়, তাহলে বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের সহযোগিতামূলক কাজ করতে হবে। আর তারা যদি সেটা না রাখে, সে ক্ষেত্রে তারাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ভারতের সঙ্গে সম্পর্কে বাংলাদেশের বেশ কিছু সংবেদনশীল ইস্যু রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তি। চলতি বছরই এই চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। তবে চুক্তির আওতায় থাকা পানির ন্যায্য হিস্্সা বাংলাদেশ কখনোই পায়নি। এ ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারের আপত্তিকে কারণ হিসেবে দেখিয়েছে ভারত সরকার। বর্তমানে যেহেতু উভয় জায়গায় বিজেপি ক্ষমতায় রয়েছে, ফলে পানিবণ্টন নিয়ে আশাবাদী হতে চাইছে অনেকেই।