জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সহযোদ্ধা ও সংস্কৃতিকর্মী কারিনা কায়সারের মৃত্যুতে গভীর শোক ও শ্রদ্ধা জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

শুক্রবার (১৫ মে) দিবাগত রাতে দেওয়া শোকবার্তায় তিনি বলেন, কারিনা কায়সারের মৃত্যু দেশের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন, সাংস্কৃতিক অঙ্গন ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।

আসিফ মাহমুদ আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় কারিনা কায়সারের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রামে তার দৃঢ় অবস্থান ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি শুধু সংস্কৃতিকর্মীই ছিলেন না, অন্যায়ের বিরুদ্ধে নৈতিক অবস্থান নেওয়া এক সাহসী কণ্ঠস্বরও ছিলেন।

তিনি উল্লেখ করেন, কঠিন দমনমূলক সময়েও কারিনা কায়সার গণমানুষের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন এবং সাংস্কৃতিক প্রতিরোধকে আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত করতে ভূমিকা রেখেছেন। তার সাহস, সংগ্রাম ও প্রতিশ্রুতি নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এনসিপি মুখপাত্র মরহুমার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে পরিবার, সহযোদ্ধা ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি সমবেদনা জানান।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দিবাগত রাতে ভারতের চেন্নাইয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কারিনা কায়সার মারা যান। তিনি দীর্ঘদিন ধরে লিভার–সংক্রান্ত জটিলতায় ভুগছিলেন।

প্রথমে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে চেন্নাই নেওয়া হয় এবং ভেলোরের খ্রিষ্টান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (সিএমসি) তার চিকিৎসা চলছিল। সেখানে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রস্তুতিও চলছিল বলে জানা গেছে।

চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে পরিবার জানায়, হেপাটাইটিস এ ও ই–জনিত সংক্রমণে তার লিভার ফেইলিউর দেখা দেয়। পরে ফুসফুসে জটিলতা দেখা দিলে অবস্থার আরও অবনতি হয় এবং আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়।

কারিনার বাবা ও সাবেক জাতীয় ফুটবল খেলোয়াড় কায়সার হামিদ সামাজিক মাধ্যমে মেয়ের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন। তিনি লিখেছেন, মেয়ের কোনো ভুল-ত্রুটি হয়ে থাকলে সবাই যেন ক্ষমা করে দেন এবং তার জন্য দোয়া করেন।

তিনি আরও জানান, চিকিৎসকেরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

সংস্কৃতিকর্মী ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে পরিচিত কারিনা কায়সার সাম্প্রতিক সময়ে অভিনয় ও চিত্রনাট্য লেখার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার তৈরি কনটেন্ট তরুণ দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। তিনি ওটিটি ও নাট্যজগতেও কাজ করেছেন। তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ‘ইন্টার্নশিপ’ ও ‘৩৬-২৪-৩৬’।

তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহকর্মী, নির্মাতা ও ভক্তরা গভীর শোক প্রকাশ করছেন।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews