মোহনগঞ্জ (নেত্রকোনা) সংবাদদাতা
নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলায় ডিঙ্গাপোতা হাওড়া সংলগ্ন বলদর্সি গ্রামের কৃষক আনোয়ার হোসেন এখন দিশেহারা। তার মন কেমন যেন ভিজে কাঁদে—ঠিক যেন তার বোরো ধানের ক্ষেতের মতোই। কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে তার বহু জমির বোরো ধান পানিতে তলিয়ে যেতে বসেছে। আস্তে আস্তে ডুবে যাওয়া ধানের দিকে তাকিয়ে তিনি কিছুই করতে পারছেন না। কারণ ধান কাটতে বা তুলতে কাজে আসে এমন লোক পাওয়া যাচ্ছে না।

গ্রামের চা-স্ট্যান্ডে গলা ভেজা কণ্ঠে আনোয়ার বলেন, ‘যাদের পাই, তারা প্রতিদিন হাজার থেকে পনেরশ টাকা মজুরি চান। এনজিও থেকে লোন নিয়েছি, ধান কাটাবো কিন্তু কাজের লোক পাচ্ছি না আর সব ধান ততক্ষণে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

তিনি জানান, বছরের এই সময় খরচ সবচেয়ে বেশি। ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার টাকা, সংসারের খরচ, জমির বীজ-সারের পাওনা—মাথায় হাত দিয়ে ভাবছেন কী করবেন।

‘পোলাপানদের পড়াশোনার টাকা কোথায় পাব? বিকেলে কলম-খাতাও কিনে দিতে পারছি না। কেউ কি একটু সাহায্য করবে?’

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বলদর্সি ও আশপাশের গ্রামে ধান কাটার শ্রমিক সঙ্কট কয়েক বছর ধরেই প্রকট। উজান থেকে আসা শ্রমিকরা এখন শহরের কাজে চলে গেছে। ধান কাটাতে যদি আরো একটু দেরি হয়, তবে আনোয়ারের মতো শত শত কৃষকের পুরো বছরের পরিশ্রম একেবারে ডুবে যাবে।

তবে অভিযোগ শুধু কাজের লোকের অভাবে নয়। প্রয়োজনীয় নগদ টাকা বা স্বল্প সুদে কৃষি ঋণের ব্যবস্থা থাকলেও তা সাধারণ কৃষকের কাছে পৌঁছচ্ছে না। আর এনজিওর কিস্তির চাপে দিনমজুর দিতে গিয়েও নির্ভরশীল থাকছেন অনেকে।

আনোয়ার হোসেনের চোখ দুটো যখন ক্ষেতের দিকে তাকায়, তখন আর্তনাদ না করেও কান্না থামে না। তিনি প্রশাসন ও সমাজের বিত্তশালী মানুষদের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে অন্তত বাকি ধান তুলতে জরুরি ভিত্তিতে কাজের লোক পাঠানো হয় বা আর্থিক সাহায্য দেয়া হয়।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews