আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোকে আরো স্বচ্ছ, অংশগ্রহণমূলক ও সুশৃঙ্খল করতে জাতীয় নির্বাচনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গতকাল বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ, সংস্কার ও সার্বিক নির্বাচনী ব্যবস্থা নিয়ে আয়োজিত অংশীজনদের সাথে এক সংলাপে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এই পরিকল্পনার কথা জানান।
তিনি স্পষ্টভাবে জানান, যদিও স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচনের আইনি কাঠামো ও প্রেক্ষাপট ভিন্ন, তবুও জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতির অভিজ্ঞতাগুলো স্থানীয় নির্বাচনের মানোন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে। সংলাপে ইসি সানাউল্লাহ গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করেন যে, নির্বাচন কমিশন আসন্ন স্থানীয় ভোটের জন্য কেন্দ্র স্থাপন থেকে শুরু করে লজিস্টিক সাপোর্ট—সবকিছুতেই একটি পরিকল্পিত ও আধুনিক রূপরেখা তৈরির কাজ করছে। জাতীয় নির্বাচনের চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় অর্জিত শিক্ষাগুলোকে স্থানীয় পর্যায়ে প্রয়োগের মাধ্যমে একটি ত্রুটিমুক্ত নির্বাচনী পরিবেশ গড়ে তোলাই কমিশনের মূল লক্ষ্য।
এর মাধ্যমে স্থানীয় নির্বাচনে ভোটগ্রহণের হার বাড়ানো এবং ভোটারদের আস্থা নিশ্চিত করার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করা হবে। নির্বাচন সংস্কারের বিষয়ে কমিশনার জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিদ্যমান বিধিমালা পর্যালোচনার কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। বিভিন্ন নিরপেক্ষ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সংস্থার কাছ থেকে পাওয়া গঠনমূলক মূল্যায়ন ও সুপারিশগুলোকে কমিশন বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। একইসাথে জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনের আইনি বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট আইনগুলো সংস্কারের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে, যাতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো আরো শক্তিশালী আইনি সুরক্ষার আওতায় আনা সম্ভব হয়।
সংলাপে অংশগ্রহণকারী বিশেষজ্ঞ ও পর্যবেক্ষকরা স্থানীয় নির্বাচনে প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ডিজিটাল ভোটিং সিস্টেমের স্বচ্ছতা নিয়ে যে প্রস্তাবনাগুলো দিয়েছেন, কমিশন তা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছেন ইসি সানাউল্লাহ। কমিশন বিশ্বাস করে, সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডার বা অংশীজনদের পরামর্শ এবং ইসির নিজস্ব সক্ষমতার সমন্বয় ঘটালে সামনের দিনগুলোতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
সংলাপে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেন যে বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থার উন্নয়নে ভবিষ্যতেও সম্পৃক্ত থাকতে চায় তাদের জোট। বিশেষ করে নারী, সংখ্যালঘু ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ বাড়াতে কমিশনের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।