ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে ফেসবুকে কটূক্তি করা আজিজুল হক (৩৫) নামে এক জামায়াত নেতাকে মামলা ছাড়াই আদালতে পাঠিয়েছেন ওসি মো. লুৎফর রহমান। অভিযোগ উঠেছে- গ্রেপ্তারের পর স্থানীয় জামায়াত নেতারা আজিজুল হককে ছাড়াতে থানায় এসে সুপারিশ করেন। এ নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের মাঝে ক্ষোভ-অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। গত শুক্রবার বিকালে মুক্তাগাছা থানা পুলিশ ৫৪ ধারায় আজিজুল হককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠায়। পরে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইকবাল হোসেন তাকে ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আদালত পরিদর্শক মোস্তাছিনুর রহমান খবরের সত?্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মুক্তাগাছা থানা পুলিশ আজিজুল হক নামে একজনকে ৫৪ ধারায় আদালতে পাঠিয়েছে। পরে বিচারক শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। জানা যায়, আজিজুল মুক্তাগাছা উপজেলার কাশিমপুর ইউনিয়নের ঝনকা বড়টেঙ্গর গ্রামের ইব্রাহিমের ছেলে। তিনি উপজেলার ৯নং কাশিমপুর ইউনিয়ন শাখা জামায়াতের ইসলামীর পদধারী নেতা বলে দাবি স্থানীয় একাধিক সূত্রের। পুলিশ জানায়, অজ্ঞাতনামা কে বা কারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ব্লগ পেজে এক নারীর অশ্লীল ছবির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি এডিট করে ‘অনেকদিন পর বান্ধবীর সঙ্গে দেখা’ লিখে পোস্ট করেন। ওই ফেসবুক থেকে আজিজুল নিজের ফেসবুক আইডিতে তা শেয়ার দেন। একইসঙ্গে ওই পেজ থেকে নিয়মিত দেশ ও সরকারবিরোধী বিভিন্ন পোস্ট দিয়ে আসছিলেন। এ ছাড়াও আজিজুল তার পরিচালিত ঝনকা বাজার নার্সারিতে অচেনা ব্যক্তিদের নিয়ে গভীর রাত পর্যন্ত গোপন মিটিং করে। আজিজুলকে অপরাধে জড়িত সন্দেহে গত বৃহস্পতিবার রাত দেড়টায় উপজেলার ঝনকা বাজার থেকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানায় পুলিশ। মুক্তাগাছা উপজেলা জামায়াতের আমীর শামসুল হক বলেন, শুনেছি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে ফেসবুকে কটূক্তি করার ঘটনায় আমাদের এক কর্মীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। জামায়াতের নেতাকর্মীরা তাকে ছাড়াতে থানায় গিয়েছিল। এ সময় আপনি থানায় গিয়েছিলেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমিও গিয়েছিলাম। তবে, অন্য একটি কাজে। তবে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তি ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি নয় বলে দাবি করে তিনি আরও বলেন, বিগত নির্বাচনে সে আমাদের পক্ষে নির্বাচন করেছে। তবে সে দলের পদে নেই। মুক্তাগাছা থানার ওসি মো. লুৎফর রহমান বলেন, আজিজুলকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। যেহেতু বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে তাই মামলা করার আগে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করতে হয়। ফলে আলোচনা করে ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ায় মামলার আগে আজিজুলকে ৫৪ ধারায় আদালতে পাঠানো হয়েছে। তবে এ ঘটনায় আজিজুলের বিরুদ্ধে সাইবার আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন। স্থানীয় এক রাজনৈতিক কর্মী বাদী হয়ে মামলা দায়ের করবেন বলেও জানায় ওসি।