ভোজ্যতেলের দাম বাড়াতে মিল মালিকদের দেওয়া প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, আপাতত দেশে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ছে না এবং বর্তমানে দাম বাড়ানোর মতো কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। দেশের মানুষ মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধসহ বৈশ্বিক নানা কারণে শঙ্কার মধ্যে আছে। আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার হচ্ছে, এর মধ্যে যেন পণ্যের দাম না বাড়ে।
রোববার সচিবালয়ে ভোজ্যতেলের মিলারদের সংগঠন ‘বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন’-এর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। এর আগে, বৃহস্পতিবার ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর একটি প্রস্তাব দিয়ে রেখেছিলেন মিল মালিকরা।
উল্লেখ্য খুচরা বাজারে প্রতিলিটার ১৭৬ টাকা দামের খোলা সয়াবিন বর্তমান বিক্রি হচ্ছে ২১০ টাকায় এবং এক বা দুই লিটারের বোতলজাত তেল বাজার থেকে উধাও হয়ে গেছে। এজন্য ব্যবসায়ীদের কারসাজি রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
তেলের বাজার পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ভোজ্যতেল নিয়ে আমরা নিয়মিত বসি। এটি একটি সংবেদনশীল পণ্য। এর দাম বাড়লে ক্রেতারা নাখোশ হোন। এজন্য নিয়মিত বিরতিতে আমরা দেশের তেলের সরবরাহ পরিস্থিতি, আমদানি পর্যালোচনা করি। তবে এ বৈঠকে দাম বাড়ানোর বিষয়ে এখনো বলার মতো কোনো কিছু হয়নি।
তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির প্রভাবে জ্বালানি ও সরবরাহ ব্যবস্থায় যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তা বিবেচনায় রেখে সরকার বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। আমরা ব্যবসায়ীদের সমস্যাগুলো শুনেছি। এগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করে খুব দ্রুত একটি বাস্তবসম্মত ও গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হবে, যাতে সরবরাহ চেইন অব্যাহত রাখা যায়।
জার্মানি-সুইডেনের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রীর বৈঠক : জার্মানি ও সুইডেনের সঙ্গে নন-ট্যারিফ বাধা অপসারণে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা ভবিষ্যতে দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
এদিন দুপুরে সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর অফিস কক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মানির রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজ এবং সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইক পৃথক বৈঠকে তিনি এ কথা জানান। বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ইউরোপ বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের একটি প্রধান গন্তব্য। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে উভয় দেশই লাভবান হতে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কিছু নন-ট্যারিফ বাধা রয়েছে, যা দূর করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে।
এদিন বিকালে চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এসএমই বৈশাখী মেলা-১৪৩৩ উদ্বোধন করেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।