বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেছেন, অস্বাভাবিক শর্ত ও উচ্চমূল্যের কারণে ভারতের আদানি পাওয়ারের সঙ্গে করা বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তিটি এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গতকাল জাতীয় সংসদে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। একই সঙ্গে ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, চাহিদা অনুযায়ী দেশে বিদ্যুতের কোনো ঘাটতি নেই।

জ্বালানি মন্ত্রী বলেন, তবে গ্রীষ্মকালে সর্বোচ্চ চাহিদার সময় প্রাথমিকভাবে জ্বালানির ঘাটতি, সঞ্চালন এবং ঝড়-বৃষ্টির সময় রক্ষণাবেক্ষণের কারণে কিছুটা বিভ্রাট ঘটে। যদিও চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হয় না। বিদ্যুৎ চাহিদাও দিন দিন বাড়ছে। গ্রাহকের চাহিদা পূরণে বন্ধ বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর জন্য কিছু কার্যক্রম হাতে নিয়েছে সরকার।

চট্টগ্রাম ১৫ আসনের সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ভারতের আদানি পাওয়ারের সঙ্গে করা বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি নিয়ে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে সরকার। অস্বাভাবিক উচ্চমূল্যে চুক্তি সই হওয়ার তথ্য সামনে আসায় এখন আন্তর্জাতিক সালিশি আদালত বা দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে চুক্তিটি পুনর্বিবেচনার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। অস্বাভাবিক শর্ত ও উচ্চমূল্যের কারণে এ চুক্তিটি এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, ২০১৭ সালে ভারতের আদানি পাওয়ার (ঝাড়খ-) লিমিটেডের সঙ্গে করা চুক্তিটি পর্যালোচনার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সুপ্রিম কোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে একটি জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটিতে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, আইনজ্ঞ, অর্থনীতিবিদ ও চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টরা ছিলেন। তারা চুক্তিটির প্রতিটি দিক পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করেছেন।

কমিটির পর্যালোচনায় উঠে এসেছে যে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সম্পাদিত এ চুক্তিতে বিদ্যুতের দাম তৎকালীন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারদরের তুলনায় অনেক বেশি ধরা হয়েছে। পর্যালোচনার প্রয়োজনে আন্তঃদেশীয় চুক্তি বিষয়ে আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের মতামতও নিয়েছে কমিটি।

ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, অস্বাভাবিক শর্ত ও উচ্চমূল্যের কারণে এ চুক্তিটি এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান সরকার এখন দুটি পথ বিবেচনা করছে। প্রথমত আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতে চুক্তির বিতর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে আন্তর্জাতিক আদালতের দ্বারস্ত হওয়া। দ্বিতীয়ত দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে আদানি পাওয়ারের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে চুক্তির শর্তগুলো সংশোধন ও বিদ্যুতের দাম কমানোর উদ্যোগ নেওয়া। তিনি বলেন, জাতীয় কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে দেশের স্বার্থরক্ষায় যা যা প্রয়োজন, সরকার সেই পদক্ষেপই নেবে।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে করা ২৫ বছর মেয়াদি এ চুক্তির আওতায় ভারতের ঝাড়খ-ে অবস্থিত আদানির কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে শুরু থেকেই এই চুক্তির স্বচ্ছতা ও উচ্চমূল্য নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন ছিল।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews