মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে উত্তাপ আরো বাড়িয়ে দিয়ে মার্কিন ও ইসরাইল লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে বিধ্বংসী হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী রক্ষী বাহিনী (আইআরজিসি)। নিখুঁতভাবে লক্ষ্যভেদে সক্ষম একঝাঁক আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং চালকহীন আকাশ যান বা ড্রোনের মাধ্যমে এই প্রতিশোধমূলক অভিযান চালানো হয়।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) ভোরে আইআরজিসি এক ঘোষণায় জানায়, ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪’ বা ‘সত্য প্রতিশ্রুতি ৪’-এর আওতায় এটি ছিল তাদের ৭৮তম শক্তিশালী হামলা।

বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই বিশেষ অভিযানটি ইরানের পূর্বাঞ্চলীয় বীর জনপদ—অর্থাৎ উত্তর খোরাসান, খোরাসানে রাজাভি, দক্ষিণ খোরাসান এবং সিস্তান ও বেলুচিস্তান প্রদেশের মানুষের সম্মানে উৎসর্গ করা হয়েছে।

এই অভিযানে ইসরাইলের বন্দরনগরী এইলাত, দিমোনা পারমাণবিক কেন্দ্র সংলগ্ন এলাকা এবং তেল আবিবের উত্তরাঞ্চলীয় কৌশলগত অবস্থানগুলোতে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে আঘাত হানা হয়েছে। পাশাপাশি ওই অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন ‘সন্ত্রাসী’ বাহিনীর বেশ কয়েকটি সামরিক ঘাঁটিতেও হামলা চালিয়েছে ইরান। আইআরজিসি জানিয়েছে, এই অভিযানে বহুস্তর বিশিষ্ট ওয়ারহেড সমৃদ্ধ ‘ইমাদ’ ও ‘কদর’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং অত্যাধুনিক চালকহীন আত্মঘাতী আকাশ যান বা কামিকাজে ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে।

ইরানি সামরিক কমান্ড এই অভিযানকে ‘ইমপ্যাক্ট-সেন্টার্ড’ বা ফলাফল-ভিত্তিক অপারেশন হিসেবে অভিহিত করেছে। তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছে,এই হামলা মূলত ‘শিশু হত্যাকারী ও জঘন্য আগ্রাসীদের’ সমুচিত জবাব দেয়ার একটি প্রক্রিয়া মাত্র। বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, আইআরজিসি এবং স্বেচ্ছাসেবী বাসিজ বাহিনীর প্রধান লড়াকু ইউনিটগুলো এখনো যুদ্ধক্ষেত্রে পুরোপুরি নামেনি।যদি প্রয়োজন হয় এবং তারা ময়দানে নামে, তবে যুদ্ধের রূপ হবে আরো ভয়াবহ হবে।পাশাপাশি দুশমনের পালানোর কোনো পথই থাকবে না।

বিপ্লবী রক্ষী বাহিনী বলেছে, যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিতে বা নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে শত্রুপক্ষ যে ধরনের ষড়যন্ত্র করছে,তা আইআরজিসির নজর এড়ায়নি। যারা এই আগ্রাসনের আদেশ দিচ্ছে বা বাস্তবায়ন করছে,তাদের ওপর ইরানের চূড়ান্ত আঘাত যে কোনো সময় বজ্রপাতের মতো নেমে আসবে বলেও কঠোর হুশিয়ারি ব্যক্ত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ীসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কমান্ডারকে বিনা উসকানিতে হত্যার পর থেকেই ইরান এবং মার্কিন-ইসরাইল জোটের মধ্যে এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শুরু হয়। এরপর থেকে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন সামরিক-বেসামরিক স্থাপনায় ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়ে আসছে, যার জবাবে ইরানও টানা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের সমীকরণ বদলে দেয়ার চেষ্টা করছে।

সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি, এএনআই ,শাফাক নিউজ।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews