ফেনীর পরশুরামে এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় এক মাসের বেশি কারাভোগের পর অবশেষে নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন এক মসজিদের ইমাম। ডিএনএ পরীক্ষায় অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় আদালতে তার অব্যাহতির সুপারিশ করেছে পুলিশ। একই সাথে কিশোরীর বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, পরশুরাম উপজেলার বক্সমাহমুদ ইউনিয়নের উত্তর টেটেশ্বর গ্রামের এক কিশোরী (ছদ্মনাম সিমি) অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর তার পরিবার স্থানীয় মক্তব শিক্ষক ও মসজিদের ইমাম মোজাফফর আহমদের (২৫) বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করে।

অভিযোগের পরপরই মোজাফফর আহমদ মসজিদের ইমামতি ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চাকরি হারান। পরে ২৬ নভেম্বর আত্মপক্ষ সমর্থনে গেলে আদালত প্রাঙ্গণ থেকেই তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর তিনি এক মাস দুই দিন কারাভোগ করেন। ২৮ ডিসেম্বর জামিনে মুক্ত হয়ে আইনি লড়াই শুরু করেন তিনি। মামলার খরচ চালাতে নিজের জমিও বিক্রি করতে হয়েছে বলে জানান মোজাফফর।

তদন্তের অংশ হিসেবে ২০২৪ সালের ২২ ডিসেম্বর তার ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকার সিআইডি ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হয়। পাশাপাশি কিশোরীর কিছু শারীরিক পরীক্ষা করা হয়। ২০২৫ সালের ২১ জানুয়ারির প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই পরীক্ষায় মিল না থাকায় মোজাফফরের ডিএনএ প্রোফাইলের সাথে তুলনামূলক মতামত দেয়া সম্ভব হয়নি।

পরবর্তীতে পুলিশ কিশোরী ও তার নবজাতক সন্তানের ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগ নেয়। তদন্তের একপর্যায়ে কিশোরী জানান, তার বড় ভাই দীর্ঘদিন ধরে তাকে ধর্ষণ করে আসছিল। প্রকৃত ঘটনা আড়াল করতেই পরিবারের সদস্যরা ইমাম মোজাফফরকে অভিযুক্ত করেন।

এরপর ২০২৫ সালের ১৯ মে ভুক্তভোগীর ভাই গ্রেফতার করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।

পরে কিশোরী, নবজাতক শিশু ও অভিযুক্তের ডিএনএ নমুনা ফরেনসিক পরীক্ষায় পাঠানো হয়। ৯ আগস্ট প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, শিশুটির জৈবিক পিতা হিসেবে অভিযুক্তের ডিএনএর সাথে ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ মিল রয়েছে। একই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ইমাম মোজাফফর আহমদ ওই শিশুর জৈবিক পিতা নন।

এ ঘটনার ভিত্তিতে গত ১৭ এপ্রিল মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শরীফ হোসেন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় মোজাফফরের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ না পাওয়ায় তাকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়। একই ধারায় কিশোরীর ভাইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি ফেনী জেলা কারাগারে রয়েছেন।

অব্যাহতির পর মসজিদের ইমাম মোজাফফর আহমদ বলেন, “অবশেষে সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু এই ঘটনায় আমি সামাজিক, মানসিক ও অর্থনৈতিকভাবে চরম ক্ষতির শিকার হয়েছি। চাকরি হারিয়েছি, কারাভোগ করেছি, সম্মানহানি হয়েছে। আমি ক্ষতিপূরণ চাই।”

তার আইনজীবী আবদুল আলিম মাকসুদ বলেন, “ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে এসেছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে ফাঁসানো হয়েছিল।”

জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের পরশুরাম উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মুফতি আমিনুল ইসলাম বলেন, “একজন নিরপরাধ ইমামকে সামাজিকভাবে অপদস্থ করা হয়েছে। তার পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা উচিত।”

পরশুরাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশ্রাফুল ইসলাম বলেন, “গভীর তদন্ত ও ডিএনএ পরীক্ষার ভিত্তিতেই প্রকৃত অভিযুক্তকে শনাক্ত করা হয়েছে। নিরপরাধ একজনকে ফাঁসানোর চেষ্টা হয়েছিল।”



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews