পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ডিআইজি এবং সংস্থাটির ভারপ্রাপ্ত প্রধান আলি আকবর খান সরকারি চাকরি থেকে ঐচ্ছিক অবসরের যে আবেদন করেছেন তা গতকাল পর্যন্ত গৃহীত হয়নি বলে জানা গেছে। উল্টো তাকে স্বাভাবিক অবসর দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পুলিশের এ কর্মকর্তার অবসরের আবেদনের বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি শুধু বলেন, ‘এটি অফিশিয়াল বিষয়, এটি নিয়ে কোনো কথা বলব না।’

বৈষম্যের অভিযোগ তুলে ডিআইজি আলি আকবর খান গত ৪ জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর একটি ঐচ্ছিক অবসরের আবেদন জমা দেন। পরদিনই পুলিশ সদর দপ্তর ওই আবেদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তাঁর আবেদনটি সরাসরি পদত্যাগ হিসেবে নয়, বরং সরকারি বিধি অনুযায়ী স্বাভাবিক অবসর হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। আর ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কোনো সিদ্ধান্ত না পাওয়ায় গতকালও তিনি সিআইডিতে তার স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়েছেন।

আলি আকবর খান তাঁর আবেদনপত্রে দীর্ঘ বছরের পেশাগত বঞ্চনার কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, ১৯৯৫ সালের ১৫ নভেম্বর চাকরিতে যোগদানের পর ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তাকে ওএসডি করা হয় এবং ২০২২ সালের জুলাই মাসে তাঁকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল। দীর্ঘ ১৬ বছর পর ২০২৪ সালের ১০ সেপ্টেম্বর তিনি পুনরায় চাকরিতে পুনর্বহাল হন। তিনি সাম্প্রতিক সময়ে সরকার পতনে ছাত্র-জনতার ত্যাগের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেও বর্তমানে তাঁকে যথাযথ মূল্যায়ন করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন।

আবেদনে তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, গত ৪ জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি প্রজ্ঞাপনে পদোন্নতিপ্রাপ্তদের তালিকায় নিজের নাম না থাকায় তিনি চূড়ান্তভাবে বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। চিঠিতে তিনি লিখেন, ‘নিজের অযোগ্যতা নিয়ে সরকারের বোঝা হওয়ার পরিবর্তে আমি সরকারি চাকরি আইন-২০১৮ এর ৪৪ ধারা মতে স্বেচ্ছায় অবসরে গ্রহণে ইচ্ছুক’। তিনি আগামী ২ জুলাই থেকে চাকরি থেকে অবসর এবং এক বছরের অবসরোত্তর ছুটি (পিআরএল) মঞ্জুরের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানান।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, আলি আকবর খান সরকারি চাকরিজীবী হয়ে তার আবেদনে সরকারকে সরাসরি অভিযুক্ত করেছেন। তাই এ সংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। সে কারণে সেটি ঝুলিয়ে রেখে স্বাভাবিক অবসর দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে মন্ত্রণালয়ের পুলিশ অধিশাখার কর্মকর্তারা এ নিয়ে কোনো ধরনের কথা বলতে রাজি হয়নি। জানা যায়, ১৯৯৫ সালে ১৫তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করেন আলি আকবর খান। কর্মজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি রেঞ্জ পুলিশ, পুলিশ সদর দপ্তর এবং জননিরাপত্তা বিভাগসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে দায়িত্ব পালন করেন।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews