৩০০ আসনেই প্রার্থী থাকবে এবং ইসলামের পক্ষে ওয়ান বক্স নীতিতে যারা আসতে চায় তাদের জন্য দরজা খোলা বলে ঘোষণা দিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। একক নির্বাচনের এই অবস্থান স্পষ্ট করে দলটি জানায়, আদর্শিক প্রশ্নে আপস করে কোনো জোটে যাওয়ার সুযোগ নেই।
এদিন একক নির্বাচনের ঘোষণা দিয়ে জামায়াতসহ ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যে যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। শুক্রবার বিকেল ৩টায় রাজধানীর পুরানা পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ২৬৮ আসনে প্রার্থী নিয়ে মাঠে থাকবে। আপিলে দুইটি মনোনয়ন বাতিল হলেও বাকি প্রার্থীরা সবাই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। একজনও মনোনয়ন প্রত্যাহার করবেন না।
তিনি বলেন, ৩০০ আসনের ব্যাপারে আমরা আগেই পরিষ্কার করেছি, ৩০০ আসনেই আমাদের প্রার্থী থাকবে। যারা আগে আমাদের সহযোগী ছিলেন, সমমনা ছিলেন, তাদের আজ আবারও স্পষ্ট করে বলছি—ইসলামের পক্ষে ওয়ান বক্স নীতিতে আসতে চাইলে আমাদের সঙ্গে আসতে পারেন, দরজা খোলা আছে। প্রয়োজনে তারা জামায়াতকেও তাদের নীতিগত অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন করতে পারে।
মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, গত বছরের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ইসলামপন্থি শক্তির সামনে একটি ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি হয়েছিল। সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পীর সাহেব চরমোনাই ইসলামপন্থি দলগুলোর জন্য একটি ভোট একটি বাক্স বা ওয়ান বক্স নীতির ঘোষণা দেন। শুরুতে অনেকেই এই ডাকে সাড়া দিলেও শেষ পর্যায়ে এসে কেউ কেউ রাজনৈতিক স্বার্থ ও ক্ষমতায় যাওয়ার লক্ষ্যকে মুখ্য করে এই নীতিকে ভিন্ন ধারায় নেওয়ার চেষ্টা করেছে। এতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ব্যথিত ও মর্মাহত।
তিনি বলেন, আমরা ইবাদতের রাজনীতি করি। নেতাকর্মী ও ইসলামপন্থি জনতার আবেগের সঙ্গে প্রতারণা করতে পারি না। আমাদের লক্ষ্য ছিল ইসলামী আদর্শের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পুনর্গঠন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে এসে সেই লক্ষ্য অর্জিত না হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এজন্য ইসলামের পক্ষে থাকা একটি বাক্সকে হেফাজত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জোট প্রসঙ্গে তিনি জানান, ১১ দলীয় জোটের ব্যানারে সাম্প্রতিক সংবাদ সম্মেলনে আসন বণ্টনের যে ঘোষণা এসেছে, সেখানে ইসলামী আন্দোলনের দীর্ঘদিনের আদর্শিক অবস্থানের প্রতিফলন দেখা যায়নি। এই পরিস্থিতিতে জোটে থাকা সম্ভব নয়।
জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান তুলে ধরে মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান প্রকাশ্যে বলেছেন, তারা ক্ষমতায় গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা করবেন। এমনকি খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় শরীয়াহ আইন প্রতিষ্ঠা করবেন না বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এই বক্তব্য জানার পর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ স্পষ্টভাবে বুঝে গেছে যে তাদের লক্ষ্য অর্জিত হবে না।
তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলনের কর্মী সমর্থকেরা ইসলামের পক্ষে কাজ করছেন। যদি প্রধান ইসলামপন্থি শক্তিই ইসলামী আইনের প্রতি আস্থা না রাখে, তাহলে এই স্বপ্ন বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তাই আদর্শিক বিচ্যুতির পথে আমরা যেতে পারি না।
রাজনৈতিক দিক ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, জাতীয় সরকার গঠন ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন নিয়ে জোটের ভেতরে স্বচ্ছতা ছিল না। প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে এককভাবে সমঝোতার ঘোষণা আসায় নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কোনো পাতানো বা ভাগাভাগির নির্বাচনের অংশ হতে চায় না।
তিনি আরও বলেন, ২৬৮ আসনে প্রার্থী থাকলেও বাকি ৩২ আসনে ইসলামী আদর্শ ও লক্ষ্যের সঙ্গে মিল রয়েছে এমন সৎ ও যোগ্য প্রার্থীদের সমর্থন দেওয়া হবে। লক্ষ্য হলো ৩০০ আসনেই ইসলামের পক্ষে ওয়ান বক্স নীতির বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।
বিডি প্রতিদিন/আশিক