অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার ডক্টরাল গবেষণার সুপারভাইজার মাইকেল বিগস প্রায়ই জিজ্ঞেস করেন, আমরা জুলাইকে ‘অভ্যুত্থান’ কেন বলি, ‘বিপ্লব’ কেন বলি না?
প্রশ্নটা কৌতূহলোদ্দীপক। আসলে আমরা জনপরিসরে এটিকে অভ্যুত্থান হিসেবেই গ্রহণ করেছি। কেউ এখনো এটিকে ‘শ্রাবণবিপ্লব’ বা ‘বর্ষাবিপ্লব’ বললেও মূলধারায় অভ্যুত্থানই বলা হচ্ছে। এমনকি জুলাইয়ের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারও ‘অভ্যুত্থান’ শব্দই ব্যবহার করেছে। এটি কি কেবলই ভাষাগত খুঁটিনাটি, নাকি আসলে এক বাস্তবতার প্রতিফলন, তা নিবিড়ভাবে ভাবা প্রয়োজন।
বিপ্লবের প্রশস্ততর সংজ্ঞা মেনে চললে অবশ্যই জুলাইকে একটি বিপ্লব বলা যায়। একটি সংঘবদ্ধ আন্দোলনের ফলাফল হিসেবে সরকারের পরিবর্তন ঘটেছে, এটিকে অন্তত একটি রাজনৈতিক বিপ্লব বলাই যায়। কিন্তু তবু আমরা অভ্যুত্থান বলছি, এর পেছনে একটা গভীর কারণ আছে বলেই আমার মনে হয়।
মার্কিন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী চার্লস টিলির ভাষায় বলা যেতে পারে, জুলাইয়ে নিঃসন্দেহে একটি বৈপ্লবিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। কিন্তু তার বৈপ্লবিক পরিণতি না হয়ে বরং সম্ভাবনার মৃত্যু ঘটেছে একটি মধ্যস্থতাকারী শ্রেণির আয়োজনে। এই অর্ধপরিপক্ব অবস্থানটিই আমাদের দেশে অভ্যুত্থানের বিশেষ একটি বর্গকে হাজির করেছে, যা আন্দোলন আর বিপ্লবের মাঝামাঝি কোথাও অবস্থান করছে।