কুড়িগ্রামের উলিপুরে মাদ্রাসার শিক্ষার্থী রাতভর ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। ওই শিক্ষার্থীর ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য রোববার কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছে পুলিশ। এছাড়া চট্টগ্রামের পটিয়ায় এক শিশু বলাৎকারের শিকার হয়েছে। এ ঘটনায় মাদ্রাসা শিক্ষককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-
উলিপুর (কুড়িগ্রাম) : মামলা সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার গুনাইগাছ ইউনিয়নের নাগড়াকুড়া বাজার এলাকার আনু মিয়ার ছেলে রাকিব একটি মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে দীর্ঘদিন থেকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছে। ৩০ জুন বিকালে রাকিব ওই শিক্ষার্থীকে স্থানীয় মাদ্রাসায় আসতে বলেন। এরপর ওই শিক্ষার্থী সেখানে গেলে রাকিব মাদ্রাসার দায়িত্বে থাকা শিক্ষক সহিদুল ইসলামের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। রাত হলে ওই শিক্ষক রাকিবকে শ্রেণিকক্ষেই ঘুমাতে বলে শিক্ষার্থীকে নিয়ে মাদ্রাসার অফিস কক্ষে নিয়ে যান। এরপর অফিস কক্ষের দরজা বন্ধ করে শিক্ষক ওই ছাত্রীকে চড় থাপ্পড় মেরে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এ সময় শিক্ষার্থীর চিৎকারে রাকিব এসে দরজা খুলতে বলে। পরে শিক্ষক রাকিবের কাছে শিক্ষার্থীকে রেখে চলে যান। শিক্ষার্থীকে ওই শিক্ষক ধর্ষণের চেষ্টা করেন বলে রাকিবকে জানায়। এ সময় রাকিব ওই শিক্ষার্থীকে বিয়ে করার আশ্বাস দিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করে। সকালে রাকিব ও শিক্ষক সহিদুল মাদ্রাসা থেকে ওই শিক্ষার্থীকে তার বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। শিক্ষার্থী বাড়িতে গিয়ে ঘটনার বিষয়ে স্বজনদের জানান। এরপর স্থানীয় মাতবররা বিষয়টি ধামাচাপা দিতে শিক্ষার্থীর পরিবারকে চাপ দিয়ে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। পরে শিক্ষার্থীর নানা বাদী হয়ে শনিবার রাতে রাকিব ও শিক্ষক সহিদুলের নামে উলিপুর থানায় মামলা করেন।
উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাঈদ ইবনে সিদ্দিক বলেন, মামলার আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
পটিয়া (চট্টগ্রাম) : পটিয়ায় পায়ুপথের সমস্যায় পাইলস মনে করে আট বছরের শিশুকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যায় তার অভিভাবক। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর পাইলসের আলামত না পেয়ে যৌন নির্যাতনের সন্দেহ করেন। পরপর তার সঙ্গে কৌশলে কথা বলে জানা যায় প্রায় এক বছর ধরে তাকে বলাৎকার করে আসছিল মাদ্রাসার শিক্ষক আজিজ উল্লাহ ও তিন শিক্ষার্থী। ঘটনাটি পটিয়া থানা পুলিশ জানার পর অভিযান চালিয়ে ওই শিক্ষককে শনিবার আটক করেছে। পলাতক রয়েছেন অন্য শিক্ষার্থীরা। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা না করায় পুলিশ শিক্ষককে ৫৪ ধারায় চালান দিয়েছে।
গ্রেফতার শিক্ষক আজিজ উল্লাহ বোয়ালখালী উপজেলার শ্রীপুর খরন্দীপ ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। মাদ্রাসার সুপার মওলানা মো. আবদুল্লাহ রোববার বলেন, ঘটনার পর অভিযুক্ত শিক্ষককে মাদ্রাসা থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। ঘটনাটি স্বীকার করেছেন শিক্ষক।
ভুক্তভোগীর বাবা জানান, মামলা হলে মাদ্রাসাটি বন্ধ হয়ে যেতে পারে, এ জন্য তারা মামলার দিকে যাচ্ছে না। এছাড়া পারিবারিক সম্মানের বিষয় জড়িত বলেও তিনি জানান।
পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষক আজিজ উল্লাহকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অপর তিন অভিযুক্তকে থানায় হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।