ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে গত দুইদিন ধরে আন্দোলন করছেন
সংগঠনটির সদস্যরা। বৃহস্পতিবার রাতভর অবস্থানের পর শুক্রবার দিনভরও প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার অদূরে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ের সড়কে অবস্থান থেকে গতকাল পরিস্থিতি সংঘর্ষে গড়িয়েছে। দুপুরের পর প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন অভিমুখে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। দফায় দফায় এই সংঘর্ষ গড়ায় রাত পর্যন্ত। বিকালে মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে মঞ্চের ফেসবুক পোস্টে প্রচার করা হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় আরও নেতাকর্মী বিক্ষোভে নামলে বেসামাল পরিস্থিতি তৈরি হয়। যদিও পরে জানা যায় জাবের আহত হয়েছেন তবে গুলিবিদ্ধ নয়। সরকার, ডিএমপি এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এটি নিশ্চিত করে। প্রশ্ন দেখা দেয় এই গুলিবিদ্ধের তথ্য ছড়িয়ে উত্তেজনা তৈরি করা হলো কেন?
প্রথম দফা সংঘর্ষের পর ইনকিলাব মঞ্চের ফেসবুক পেজে স্ট্যাটাস দেয়া হয়- ‘জাবের ভাই গুলিবিদ্ধ। জুমা-শান্তাকে বুট দিয়ে পাড়ানো হইছে।’ এই পোস্টের পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সকল মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে- ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব ‘জাবের গুলিবিদ্ধ’ হয়েছেন। যা নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। কিছু গণমাধ্যমে জাবের গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে খবরও আসে।
পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়- শুক্রবার যমুনা এলাকায় আন্দোলনরত কারোর ওপর কোনো গুলি চালায়নি পুলিশ।
বিজ্ঞাপন
অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়, শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে ৫ই ফেব্রুয়ারি বিকাল থেকে ইনকিলাব মঞ্চের ব্যানারে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার সামনে বিক্ষোভ শুরু হয়। যমুনা ও এর আশপাশের এলাকায় বিক্ষোভ নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রথমে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের বল প্রয়োগ করেনি। শুক্রবার বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে যমুনার অভিমুখে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে এবং একপর্যায়ে জলকামানের ওপর উঠে গেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করে। সরকার স্পষ্টভাবে জানাচ্ছে যে, এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো ধরনের গুলি ছোড়েনি। জনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা ও সংলগ্ন এলাকায় যেকোনো প্রকার সভা-সমাবেশ, মিছিল, গণজমায়েত ও বিক্ষোভ প্রদর্শন নিষিদ্ধ রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে পুলিশ সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক ও আইনানুগভাবে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, শুক্রবার যমুনা ও ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় এলাকায় আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করার সময় কোনো ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র (লেথাল ওয়েপেন) ব্যবহার করা হয়নি।
এদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় আহত হয়ে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবেরসহ সর্বমোট ২৩ জন চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন। তবে তাদের কারও শরীরে গুলির আঘাত নেই বলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেছেন। সরকার স্পষ্টভাবে পুনর্ব্যক্ত করছে যে, শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারে সরকার বদ্ধপরিকর। জাতিসংঘের অধীনে তদন্ত পরিচালনার আইনগত দিক সরকার গভীরভাবে পর্যালোচনা করছে এবং এ বিষয়ে আগামী ৮ই ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হবে। এদিকে পুলিশি হামলায় আহত হয়ে ঢামেকে চিকিৎসা নেয়ার পর ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেছেন সংগঠনটির সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের। তিনিও গুলিবিদ্ধের কথা বলেননি।