বিশ্বকাপে ম্যাচসেরা খেলোয়াড়কে পুরস্কৃত করার ক্ষেত্রে মুসলিম ফুটবলারদের ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি সম্মান দেখিয়ে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে ফিফা। এই উদ্যোগ বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হলেও ভারতীয় একটি প্রভাবশালী দৈনিকের অনলাইন সংস্করণ বিষয়টিকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করেছে। পত্রিকাটি ‘মুসলিম ফুটবলারদের জন্য ম্যাচসেরার আলাদা পুরস্কার, কেন এই “বৈষম্য” বিশ্বকাপে?’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
বিশ্বকাপে ম্যাচসেরার ট্রফির স্পনসর একটি মদ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান। ফলে সাধারণ ট্রফিতে ওই প্রতিষ্ঠানের নাম ও লোগো থাকে। তবে ইসলামে মদ হারাম হওয়ায় ধর্মীয় বিশ্বাসকে সম্মান জানিয়ে মুসলিম ফুটবলারদের জন্য একই ট্রফি থেকে মদের ব্র্যান্ডের নাম ও লোগো সরিয়ে দেয়া হচ্ছে। পুরস্কারের অন্য সব দিক অপরিবর্তিত থাকছে।
ফিফার এ সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে অতীতের অভিজ্ঞতা। ২০১৮ বিশ্বকাপে উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচসেরা হওয়া মিসরের গোলরক্ষক মোহাম্মদ এল শেনায়ি মদ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের স্পনসরযুক্ত ট্রফি গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। এরপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে নতুন নীতিমালা গ্রহণ করা হয়।
শুধু মুসলিম ফুটবলারই নন, ফ্রান্সের তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পেও অতীতে ম্যাচসেরার ট্রফি গ্রহণের সময় মদের ব্র্যান্ডের লোগো ঢেকে রেখেছিলেন। তার নীতি হলো, তিনি মদ বা জুয়ার প্রতিষ্ঠানের প্রচারণা করবেন না। একই ধরনের অবস্থান অতীতে নিয়েছিলেন আইভরি কোস্টের কিংবদন্তি ইয়ায়া তোরেও।
ধর্মীয় বিশ্বাস ও ব্যক্তিগত নীতির প্রতি সম্মান জানিয়ে ফিফার এই উদ্যোগকে অনেকেই অন্তর্ভুক্তিমূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। তবে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমটি এটিকে ‘বৈষম্য’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে নেতিবাচক দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করেছে।