আগামী দিনের নতুন বাংলাদেশ গড়তে এবং দেশে ইসলামী মূল্যবোধের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের সব ঘরানার শীর্ষ আলেম ও ইসলামী নেতৃবৃন্দ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও ধানের শীষ প্রতীকের ওপর আস্থা প্রকাশ করেছেন। একটি নিরাপদ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিকে সমর্থন জানিয়েছেন।
২০২৪-এর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর উদ্ভূত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জামায়াত-শিবিরের কর্মকাণ্ড নিয়ে আলেম সমাজের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, অনলাইন ও অফলাইনে জামায়াত কর্মীরা দেশের সর্বজন শ্রদ্ধেয় শীর্ষ আলেম ও জাতীয় নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে উগ্র ও নেতিবাচক আচরণ করছেন। এটি দলটির দীর্ঘদিনের ভিন্নমতাবলম্বীদের প্রতি অসহিষ্ণুতারই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শীর্ষ আলেমদের মতে, জামায়াত নিজেদের দেশে ইসলামী শক্তি হিসেবে পরিচয় দিলেও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তারা ভিন্ন রূপ প্রদর্শন করছে। দলটির নায়েবে আমির আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের জামায়াতকে ‘মডারেট’ দল হিসেবে দাবি করা এবং দলটির আমিরের পশ্চিমা মিডিয়ার কাছে ‘শরীয়াহ আইন’ কায়েম না করার অঙ্গীকারকে আলেম সমাজ সন্দেহের চোখে দেখছেন। এছাড়া জামায়াতের ইশতেহারে বর্ণিত কিছু আধুনিক পরিভাষা ও ‘ওপেন গভর্নমেন্ট’ ব্যবস্থার আড়ালে বিজাতীয় সংস্কৃতি ও নৈতিক অবক্ষয়ের আশঙ্কা করছেন ধর্মতাত্ত্বিকরা।
দেশের কওমী, আলিয়া এবং বিভিন্ন দরবার ও খানকার শীর্ষ নেতৃবৃন্দ যার যার অবস্থান থেকে ধানের শীষের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সমর্থনকারী উল্লেখযোগ্য নেতৃবৃন্দের মধ্যে রয়েছেন,আল্লামা মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী: আমির, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। আল্লামা শায়েখ মাহমুদুল হাসান: চেয়ারম্যান, বেফাক ও হাইয়্যার। মাওলানা সাজিদুর রহমান: মহাসচিব, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। মাওলানা একে এম আশরাফুল হক: নির্বাহী সভাপতি, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি।
এছাড়াও ফুলতলী দরবার, ছরছিনা দরবার, মাইজভাণ্ডার দরবার, চরমোনাই দরবার, জৈনপুরের পীর মুফতি এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী, ঢালকানগর পীর সাহেব শায়েখ আব্দুল মতিনসহ ইসলামী ঐক্যজোট ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের উভয় অংশের নেতৃবৃন্দ বিএনপি প্রার্থীর প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন।
ইতিমধ্যেই মূল ধারার গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলেমদের এসব বক্তব্য ভাইরাল হয়েছে। বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির নির্বাহী সভাপতি মাওলানা একে এম আশরাফুল হক এ বিষয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার সতের বছর ভারতের প্রেসক্রিপশন বাস্তবায়ন করেছে, আর জামায়াত মাত্র দেড় বছরেই ভিনদেশি প্রেসক্রিপশনে দেশে অস্থিরতা তৈরি করেছে। আলেম ও সুধী মহলের বিরুদ্ধে তাদের উগ্র আচরণ আতঙ্কজনক।
তিনি আরও মন্তব্য করেন যে, আগামী দিনের বাংলাদেশকে চরমপন্থা ও বিজাতীয় আদর্শ থেকে রক্ষা করতে ধানের শীষ প্রতীকের কোনো বিকল্প নেই। সে কারণেই দেশের বৃহত্তর আলেম সমাজ ধানের শীষকে তাদের পছন্দের প্রতীক হিসেবে বেছে নিয়েছেন।