মধ্যবয়সী নারী। বোরকা পরা থাকে। একেক সময় একেক সাজ। কিন্তু আড়ালে সে আপাদমস্তক অপরাধী। ঠিক কতোবার গ্রেপ্তার হয়েছে বলা মুশকিল। তবে পুলিশ বলছে- গেল কয়েক বছরে সে ১৫-১৬ বার গ্রেপ্তার হয়েছে। 
গত এক মাস আগেও গ্রেপ্তার হয়েছিল। বেরিয়ে এসে টার্গেট করে শাহজালাল (র.) মাজারের মহিলা এবাদত খানা। সেখানে মহিলা মুসল্লি সেজে যায়। সোমবার এবাদতরত এক মহিলার ব্যাগ থেকে মালামাল চুরি করতে গিয়ে গ্রেপ্তার হয়েছে। ফের কারান্তরীণ হয়েছে পপি। তাকে নিয়ে পুলিশের মধ্যে অস্বস্তি। অপরাধ ছাড়ে না। মাদক, চুরি, ছিনতাইসহ নানা অপরাধে সক্রিয়। গত ১০ বছর ধরেই পপি নগরে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। অপরাধ করে। ধরা পড়ে। জেলে যায়। ফের বেরিয়ে এসে অপরাধে জড়ায়। পপির পুরো নাম সীমা আক্তার পপি।

বাসা নগরের শাহজালাল উপশহরের এইচ ব্লকে। সেখানে সে স্থায়ী আবাস গেড়েছে। এর আগে উপশহরের সাদারপাড়া, তেররতনসহ কয়েকটি এলাকায় ভাড়া থাকতো। অপরাধের কারণে সে বারবার এসব এলাকায় বিতর্কিত হয়েছে। অপরাধের টাকায় এখন নিজেই বাসা করেছে। এ বাসা মাদক বিক্রি ও অসামাজিক কাজের আখড়া বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তার মূল বাড়ি হবিগঞ্জের মাধবপুরে। স্বামী সুমন মিয়ার সঙ্গে প্রায় এক যুগ আগে সিলেটে এসেছিল পপি। আসার পরপরই জড়িয়ে পড়ে অপরাধে। নগরের পূর্ব এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন- কলোনিতে বসবাস করতো পপি। এক সময় তার স্বামীও অপরাধে জড়িত ছিল। কলোনিতে মাদক বিক্রি ও অসামাজিক কাজে জড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকে ধীরে ধীরে একটি চক্র গড়ে তোলে। প্রায় ১০ থেকে ১২ জন মহিলা নিয়ে গড়ে তোলা ওই চক্রের নেতৃত্ব দেয় সে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে তার নামটি ব্যাপকভাবে পরিচিত। এবার গ্রেপ্তারের এক মাস আগে নগরের মধুশহীদ এলাকার একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগীর স্বর্ণের চেইন ছিনতাই করতে গিয়ে ধরা পড়ে। এর আগে গত রমজানে মহিলা চোরদের নিয়ে নগরে সরব ছিল।

কয়েকটি চুরির ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত হয় পপি। পপি ও তার চক্রের সদস্যরা দীর্ঘদিন ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রাজত্ব করেছে। হাসপাতালে রোগীদের সর্বস্ব ছিনতাই করতে গিয়ে একাধিকবার পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছে। ওসমানী হাসপাতালে চোর চক্রের প্রধান হিসেবে পপি ও তার সহযোগীদের ছবিও টানিয়ে রাখা হয়। হাসপাতালের স্টাফরা সবাই এখন পপিকে দেখলেই চিনেন। এ কারণে হাসপাতাল এলাকায় পপির উপস্থিতি কম দেখা যায় বলে জানিয়েছেন কর্মচারীরা। তারা জানান- প্রথমে হাসপাতালে লিফটে পপি চুরি করতো। এরপর ওয়ার্ডে চলে যায়। রোগীর স্বজন সেজে চুরি করতো। কয়েকবার গ্রেপ্তারের পর হাসপাতাল এলাকায় সে পরিচিতি পাওয়ায় এখন কম যাতায়াত করে। পুলিশ জানায়- পপির বিরুদ্ধে সিলেটের শাহপরাণসহ বিভিন্ন থানায় ২০-২২টি মামলা রয়েছে। তার মূল পেশা চুরি। কিন্তু পাশাপাশি ছিনতাই, অসামাজিক কাজ, মাদক কেনাবেচাসহ নানা অপকর্মের সঙ্গে জড়িত তিনি। ২০১৯ সালের ৩০শে মে নগরীর জিন্দাবাজার থেকে পপি ও তার সহযোগী স্বপ্নাকে আটক করে পুলিশ। পরদিন পুলিশ প্রসিকিউশনের মাধ্যমে আদালতে প্রেরণ করে।

ওইদিনই তারা বেরিয়ে আসেন জামিনে। একই বছর ৩০শে জুন নগরীর জিন্দাবাজার সিটি সেন্টারের সামনে থেকে স্বপ্না ও পপিকে আটক করে পুলিশ। থানা হাজতে তাদেরকে এক রাত আটকেও রাখা হয়। পরে রহস্যজনক কারণে তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা হয়নি। শাহপরাণ থানা পুলিশ জানিয়েছে- পপির বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। কয়েকটি মামলার সে চার্জশিটভুক্ত আসামি। পপি একটি কিশোর গ্যাং পোষেন বলেও জানা গেছে। সেই গ্যাংয়ের নেতৃত্ব দেন তার ছেলে অন্তর। পপির গ্রেপ্তারের ঘটনায় বুধবার সন্ধ্যায় সিলেটের কোতোয়ালি থানার ওসি খান মো. মাইনুল জাকির মানবজমিনকে জানিয়েছেন- পপি গ্রেপ্তারের ঘটনায় প্রথমে একটি মামলা হয়। এরপর আরেকজন মহিলার স্বর্ণের চেইন ছিনতাইয়ের ঘটনায় আরেকটি মামলা হয়েছে। দুটি মামলায় আদালতে পপির রিমান্ড চাওয়া হবে বলে জানান তিনি।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews