ইউনূস সরকারের ভূমিকার দিকে মনযোগ আকর্ষণ করে তবে কি তাঁরা গণভোটের সব ইতিবাচক প্রস্তাব/উদ্যোগ থেকে সচেতন ভোটারদের পর্যন্ত দূরে রাখতে চাইছেন?
যদি সংস্কারের পক্ষে একটি সম্ভাব্য বিদায়ী সরকারের গণমুখী অবস্থান সম্পর্কে বিরুদ্ধবাদীদের উদ্বেগ ও সন্দেহ আমলে নিই, তাহলে আমাদের হাসিনা যুগে ফিরে যেতে দোষ নেই।
এর অর্থ দাঁড়াবে রাষ্ট্রের সমস্ত ক্ষমতা কুক্ষিগত করা ও তাঁর ফ্যাসিবাদী হয়ে ওঠার মধ্যে কোনো অন্যায় ছিল না; গণতান্ত্রিক ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে ফেলা, জনগণের ভোটাধিকার হরণ করা, জাতীয় সম্পদ লুট করা এবং হত্যা, গুম ও বিবেকের স্বাধীনতা খর্ব করার মধ্যেও কোনো অন্যায় ছিল না। এর অর্থ দাঁড়াবে, এগুলো ইচ্ছা করলে ভবিষ্যতেও করা যেতে পারে।
নইলে গণভোটে জনগণের সম্মতি চাওয়া সংস্কার প্রস্তাবে (যেমন সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা, প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতায় ভারসাম্য আনা, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ, সংসদীয় প্রক্রিয়ায় বিরোধী দলের অংশগ্রহণের সুযোগ বৃদ্ধি এবং মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ) বিরোধিতা করার যৌক্তিকতা কোথায়!
আপনারা ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং জুলাই জাতীয় সনদে লিপিবদ্ধ সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত’ প্রস্তাবগুলোর প্রতি সম্মতি জ্ঞাপন না করলে আপনাদের নিজস্ব এবং জাতীয় অধিকার লঙ্ঘন করার সুযোগ অবারিত হবে—এটি জনগণকে বলে দিলে কি মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যাবে?