একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল তাদের স্বার্থ হাসিল করার জন্য ধর্মীয় অনুভূতির ক্রমাগত অপব্যবহার চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটি মুখপাত্র মাহ্দী আমিন। তিনি বলেন, অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ আসন্ন নির্বাচনে জনগণের আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটবে, একটি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের মাধ্যমে প্রতিটি রাজনৈতিক দল সমান সুযোগ পাবে, এটিই জনগণের প্রত্যাশা। তবে গত কয়েকদিন ধরে আমরা দুঃখজনকভাবে দেখেছি, নানা উপায়ে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নষ্ট করা হচ্ছে, একটি বিতর্কিত নির্বাচন প্রক্রিয়া সৃষ্টি হতে যাচ্ছে। একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল তাদের স্বার্থ হাসিল করার জন্য ধর্মীয় অনুভূতির ক্রমাগত অপব্যবহার চালিয়ে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিকালে গুলশানস্থ বিএনপির নির্বাচনী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহ্দী আমিন বলেন, আমরা গণমাধ্যমে দেখলাম একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল তাদের মার্কায় ভোট দিতে পবিত্র কোরআন ছুঁয়ে শপথ করানো হচ্ছে, যা সরাসরি নির্বাচন আচরণবিধির লঙ্ঘন। শুধু তাই নয়, আমরা দেখেছি সেই বিশেষ রাজনৈতিক দলটি বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের জাতীয় পরিচয় পত্র এবং বিকাশ নাম্বার সংগ্রহ করছে, যার পেছনে অসাধু উদ্দেশ্য রয়েছে।

তিনি বলেন, ইতোপূর্বে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের বেশকিছু দেশে যেমন- বাহরাইন, ওমান, কুয়েত ও সউদী আরবে শত শত ব্যালট একটি নির্দিষ্ট দলের কর্মীদের কাছে রয়েছে, যা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কারণ সংঘবদ্ধ ভোট সম্পূর্ণ বেআইনি। কোথাও কোথাও একজনের নাম্বার দিয়ে আরেকজনের পোস্টাল ব্যালট পেপার সংগ্রহ করা হচ্ছে, যেটি অনাকাক্সিক্ষত। যেহেতু বাংলাদেশে প্রবাসীদের ভোটদান প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে, আমরা চাই প্রবাসীদের ভোটের ক্ষেত্রেও সমতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করা হোক। উল্লেখ্য বিএনপিই সর্বপ্রথম প্রবাসীদের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেছিল।

মাহ্দী আমিন বলেণ, আমরা দুঃখজনকভাবে লক্ষ্য করছি, পোস্টাল ব্যালটের ক্ষেত্রে ধানের শীষের অবস্থান নিচের দিকে, যা সহজে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকি ভাঁজ করলে ধানের শীষ প্রতীক চোখে পড়ে না কিংবা দাগের কারনে মুছে যেতে পারে। অথচ প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতীককে কৌশলে সহজে দেখা যায় এমন জায়গাগুলোতে রাখা হয়েছে। চাইলেই খুব সহজে কলাম বা লাইনের সংখ্যা পুনঃবিন্যাস করে প্রতীকের অবস্থানগত এ বৈষম্য দূর করে পোস্টাল ব্যালটকে স্বচ্ছ রাখা যেত।

তিনি বলেন, গত ১৬ বছরে ফ্যাসিবাদী আমলের গুম, খুন, হামলা ও মামলার সময়ে বিএনপির কয়েকজন প্রার্থী দেশের বাইরে ছিলেন। স্বাভাবিকভাবেই তাঁদের সেখানে নাগরিকত্ব হয়েছিল এবং মনোনয়ন নিশ্চিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁরা তাঁদের নাগরিকত্ব প্রত্যাহারের আবেদন করেছিলেন। সেই আবেদনপত্র থাকার পরও নির্বাচন কমিশনে দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে জটিলতা তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। অথচ সংবিধানের আর্টিকেল ৬৬ অনুযায়ী, সেখানে কোনো অপ্রয়োজনীয় বিতর্কের অবকাশ নেই।

বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটি মুখপাত্র বলেন, বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল তাদের প্রতীকসহ সরাসরি নিজ নিজ প্রার্থী ও দলের জন্য ভোট চাইছেন বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে এবং অনলাইনে। অথচ বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ব্যক্তিগত সফরে তাঁর নানীর কবর জিয়ারত কিংবা মওলানা ভাসানী অথবা গণঅভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদ, সহ অন্যান্য শহীদদের কবর জিয়ারতে বগুড়া ও উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলায় যেতে চাইলেও, সেই ব্যাক্তিগত ও ধর্মীয় সফরকে স্থগিত করার জন্য নির্বাচন কমিশন থেকে অনুরোধ করা হয়েছে। সেই অনুরোধকে সম্মান জানিয়ে তিনি তাঁর নির্ধারিত সফর বাতিল করলেও অন্যান্য দল ও নেতারা প্রতিনিয়ত আচরণবিধি লঙ্ঘন করে যাচ্ছেন। নির্বাচন কমিশনের এই নির্লিপ্ততা অনাকাক্সিক্ষত। এটি দুঃখজনক যে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক অপপ্রচার চলছে। মিসইনফরমেশন, ডিসইনফরমেশন ও ক্যারেক্টার অ্যাসাসিনেশন করা হচ্ছে। এর প্রেক্ষিতে বিএনপি নির্বাচন কমিশনে ফ্যাক্ট-চেকিং সেল গঠনের দাবি উত্থাপন করেছে। আমরা আহ্বান জানাই, দেশজুড়ে সেই ফ্যাক্ট-চেকিং সেল যেন অতি দ্রুত কার্যকর করা হয়।

তিনি বলেন, আমরা নিশ্চিত করছি যে, তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম আইডি মেটা কর্তৃক (ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মাদার কোম্পানি) সম্প্রতি ভেরিফাই করা হয়েছে। ব্লু টিক দেয়া এই দুটি সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল ছাড়া তাঁর আর কোনো অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট নেই। বিএনপির আইসিটি দপ্তর কর্তৃক ৫০টিরও বেশি ফেইক আইডি ও পেজ রিমুভ করা হয়েছে, যেসব হ্যান্ডেল থেকে ডিপফেইক ও এআই-জেনারেটেড ভিডিও পোস্ট করে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছিল। আরও কিছু আইডি ও পেজ অবশিষ্ট আছে; সেগুলো অপসারণের বিষয়ে মেটা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ চলমান রয়েছে।

Facebook: https://www.facebook.com/zzrahman25
 Instagram: https://www.instagram.com/zzrahman25

বিএনপির চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানের নামেও অনেকগুলো ফেইক ফেসবুক পেজ খোলা হয়েছে। এসব পেজে এআই দিয়ে তৈরি বানোয়াট ও মিথ্যা ভিডিও ছড়ানো হচ্ছে। আমরা নিশ্চিত করছি যে, ডা. জুবাইদা রহমানের কোনো সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট বা পেজ নেই। সুতরাং সবাইকে বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।

মাহ্দী আমিন বলেন, নির্বাচনের সময়ে গণমানুষের সাথে সম্পৃক্ততা তৈরীর লক্ষ্যে বিএনপি ইতোমধ্যে কল সেন্টার চালু করেছে। যেকোনো ব্যাক্তি যেকোনো বিষয়ে অনুসন্ধান, প্রয়োজনীয় তথ্য, পরামর্শ বা অভিযোগ কিংবা মতামত জানাতে ১৬৫৪৩ নম্বরে কল করতে পারবেন। বিএনপি প্রণীত বিভিন্ন পলিসির জনমত তৈরি ও গঠনমূলক সমালোচনা গ্রহনের লক্ষ্যে আমরা ‘‘Match My Policy” কার্যক্রম শুরু করেছি। সেই ওয়েবসাইটের লিংক: https://www.matchmypolicy.net/

তিনি বলেন, আমরা অবহিত করছি যে, “গধঃপয গু চড়ষরপু”-এর মাধ্যমে বিএনপির প্রতিটি সেক্টরের মূল পলিসি বিষয়ে যে কেউ চাইলে তাঁর ব্যক্তিগত মতামত জানাতে পারবেন, পছন্দ-অপছন্দ জানাতে পারবেন এবং হ্যাঁ-না বলতে পারবেন। এর মূল উদ্দেশ্য হলো, জনগণের ক্ষমতায়নের দল হিসেবে আমরা যখন ম্যানিফেস্টো প্রণয়ন করব, তখন যেন প্রত্যেকের মতামতকে সম্মান ও প্রাধান্য দিতে পারি।

বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা বলেন, তারেক রহমান তাঁর আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করবেন আগামী ২২ জানুয়ারি সিলেট সফরের মধ্য দিয়ে। এ বিষয়ে পরবর্তীতে বিস্তারিত জানানো হবে।

গণভোটের ক্ষেত্রে তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের আকাক্সক্ষাকে ধারণকারী রাজনৈতিক দল হিসেবে সবার আগে আমরা সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছিলাম ২০১৬ সালের ভিশন ২০৩০, ২০২২ সালের ২৭ দফা এবং ২০২৩ সালের ৩১ দফার উপর ভিত্তি করে। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে বিএনপি যেভাবে অত্যন্ত আন্তরিকতা ও গুরুত্বের সাথে সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল সেই আলোকে বাংলাদেশের ইতিহাসে সংস্কারের ধারক, বাহক ও জনক রাজনৈতিক দল হিসেবে, জুলাই চার্টারে আমাদের অবস্থান ও প্রণীত নোট অফ ডিসেন্ট অনুযায়ী বিএনপি গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে, যা ইতোমধ্যে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব থেকেও জানানো হয়েছে।

তিনি বলেন, আসন্ন নির্বাচনকে সুন্দর, সফল, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে গণতন্ত্রকামী প্রতিটি ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক দলের বড় ভূমিকা আছে। আসুন, আমরা সবাই মিলে জনগণের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা নির্মাণ করি।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews