অধ্যাপক মাযহারুল ইসলাম

সততা, নিষ্ঠা ও ধৈর্য্যরে জীবন্ত প্রতীক ছিলেন শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী। ১৯৯১ সালের মে মাস। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তদানীন্তন ভাইস চ্যান্সেলর রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে ডাকলেন এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে। নবনির্বাচিত এমপি জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল যোগদান করলেন। সভা শুরু হয়েছে মাত্র। হঠাৎ চারদিক থেকে কতিপয় সন্ত্রাসীর আক্রমণ। মাথা ফেটে গেল। শুশ্রƒমণ্ডিত নূরানী মুখমণ্ডল রক্তে লাল হয়ে গেল। শুভ্র সফেদ পাঞ্জাবী-পায়জামা রক্তে রঞ্জিত, রক্তাক্ত সারা শরীর। বিন্দুমাত্র ভীতি নেই চোখে-মুখে। শাহাদাতের পেয়ালা পানের জন্য প্রস্তুত তিনি। বেহুশ হয়ে পড়ে রইলেন। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করলেন, হে আল্লাহ! তুমি শাহাদাত কবুল করো। এদের সামনে আমাকে দুর্বল করো না।”

আমি এ ভূখণ্ডে ছাত্র ইসলামী আন্দোলনের অন্যতম স্থপতি, ইসলামী আন্দোলনের অন্যতম নেতা, প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ ও লেখক এবং বিশিষ্ট পার্লামেন্টারিয়ান জনাব নিজামীর কথাই বলছি।

যিনি অযথা গল্প করে কোনো সময় ব্যয় করতেন না। সময় পেলেই যিনি বই পড়ায় মনোনিবেশ করতেন, পত্রিকা পড়া ছিল যার নিত্য-নৈমিত্তিক অভ্যাস, মুসলিম উম্মাহ তথা ইসলামী আন্দোলনের বর্তমান ভবিষ্যৎ নিয়ে যিনি আন্তরিকভাবে চিন্তা করতেন, রাজনৈতিক আন্দোলন, ইসলামী আন্দোলন, সামাজিক, পারিবারিক যেকোনো পরিবেশে দুঃসহ কঠিন মুহূর্তগুলোয় যিনি থাকতেন অবিচলিত, সম্পূর্ণ ঠাণ্ডা মাথায় ধীরে-সুস্থে যিনি সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করতেন, চরম প্রতিকূলতার মধ্যেও যাকে দেখা যেত পরম ধৈর্যশীল এবং যিনি ছাত্রজীবন থেকে আল্লাহর দীন এ সমাজে কায়েম করার জন্য নিজকে ওয়াকফ করে কিশোর বয়স থেকেই রাজনীতি তথা ইসলামী আন্দোলনে সম্পৃক্ত হয়ে নানা ঘাত-প্রতিঘাত ও চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে ইসলামী আন্দোলনের শীর্ষ নেতৃত্বের পদে সরাসরি রুকনদের ভোটে আমীর নির্বাচিত হয়েছিলেন, তিনি হলেনÑ শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী।

আমি দেখেছি তার সততা, তার আমানতদারী ও সহজ সরল জীবনযাপন পদ্ধতি। সৌদি আরবে মাসাধিককাল তার সাথে সফর করে দেখেছি তিনি কত কষ্টসহিষ্ণু। অন্যদিকে ইবাদাত-বন্দেগিতেও তিনি সকলের জন্য প্রেরণার উৎস।

পঞ্চাশ-পঞ্চান্ন বছর থেকে তাকে আমি জানি ও চিনি। অনেক বছর একসাথে কাজ করেছি। ত্রিশ-পঁয়ত্রিশ বছর খুব কাছে থেকে তাকে দেখার সুযোগ পেয়েছি। কোনোদিন কোনো সহকর্মী এমনকি কোনো পিয়নকেও ভুলত্রুটির কারণে সামান্যতম রাগ করে কথা বলতে দেখিনি। ১৯৯২ সালে পবিত্র রমযান মাসের মধ্যরাতে সাবেক আমীরে জামায়াত তথা বিশ্ববরেণ্য ইসলামী আন্দোলনের নেতা অধ্যাপক গোলাম আযমকে যখন গ্রেফতার করে জেলে নিয়ে যাওয়া হয়, সেদিন হাজার হাজার নেতাকর্মী এই গ্রেফতারি ঠেকাতে পথে শুয়ে পড়ে। তাদের কান্নায় আকাশ ভারী হয়ে ওঠে। এমনি এক অসহনীয় কঠিন পরিস্থিতিতে তদানীন্তন সেক্রেটারি জেনারেল পরবর্তীতে আমীরে জামায়াত শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী কিভাবে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করে একদিকে সেজদায় অবনত হয়ে মহান আল্লাহর দরবারে চোখের পানিতে ধরনা দিয়েছেন অন্যদিকে জনতাকে বলিষ্ঠতা, দৃঢ়তা ও ঐকান্তিকতার সাথে সামাল দিয়েছেন যা তার আদর্শ ও যোগ্য নেতৃত্বের কথাই মনে করিয়ে দেয়। শ্রদ্ধেয় নিজামী ভাই যে কত গুণের অধিকারী ছিলেন তার বর্ণনা দিতে গেলে একটি ইতিহাস হবে। আসলেই তার জীবন একটি ইতিহাস।

আমীরে জামায়াত হিসেবে নির্বাচিত হবার পর আমরা তাকে আমীরে জামায়াত বলে সম্বোধন করলে, ‘তিনি বলেন, আমি আপনাদের নিজামী ভাই, নিজামী ভাই বলেই ডাকবেন।’ তাই আমরা সবাই তাকে ‘নিজামী ভাই’ বলেই ডাকতাম। শ্রদ্ধেয় নিজামী ভাইয়ের সাথে সাংগঠনিক, ব্যক্তিগত, পারিবারিক এবং সামাজিক ও রাজনৈতকি স্মৃতির আমার শেষ নেই।

১৯৮৬ সালে মক্কায় আরাফাত থেকে পায়ে হেঁটে আমরা মুজদালিফায় যাচ্ছিলাম। মুজদালিফায় পৌঁছার পূর্বক্ষণে এক যুবক বেহুঁশ হয়ে পড়ে। তাকে যেভাবে সেবা-শুশ্রƒষা দেয়ার ব্যবস্থা করা হয় এবং দূর বিদেশে জনতার বিরাট দলকে শহীদ মাওলানা নিজামী যেভাবে নিয়ন্ত্রণ করেছেন তা আজও আমার মানসপটে ভাসে।

একত্রে রমি করতে গিয়ে ফেরার সময় আমি প্রচণ্ড ভিড়ের চাপে হঠাৎ মাটিতে পড়ে যাওয়ার উপক্রম হই, সেই মুহূর্তে শ্রদ্ধেয় নিজামী ভাইকে আমি জাপটে ধরেছিলাম। সেদিন সেই বিরাট ভিড়ের মধ্য থেকে কিভাবে আমাকে টেনে বের করে এনেছিলেন তা ভাবলে আজও মন শিউরে উঠে।

আমরা মদিনায় যাওয়ার পর তাকে দেখেছি রাওজাতুম্মির রিয়াজিল জান্নাহ রাসূল (সা.)-এর কবর ও মিম্বারের মধ্যবর্তী স্থান ও আস-সুফফায় বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা প্রত্যেকদিন কালামে পাক তিলাওয়াত করতেন এবং মাত্র আট দিনে কুরআন খতম করেছেন। অথচ আমরা যারা তার সাথে ছিলাম তার একবিন্দুও ধারণ করতে পারিনি।

তার অতুলনীয় সততা, আমানতদারী, পাহাড়সম ধৈর্য, মমত্ববোধ ও সহমর্মিতা, কষ্টসহিষ্ণুতা, সাংগঠনিক প্রজ্ঞা ও রাজনৈতিক দূরদর্শিতা এবং জ্ঞানের গভীরতা আমাদের সামনে বাস্তবভাবে পরিদৃষ্ট হয়ে সকলের জন্য শিক্ষণীয় হয়ে আছে। এমন নির্লোভ, নির্মোহ এবং নিরঅহংকার ব্যক্তি সমাজে খুব কমই খুঁজে পাওয়া যায়।

তিনি নিয়মিত প্রত্যেক রমযানের শেষে ইতেকাফ করতেন। অফিস থেকে এক ভাইকে আমরা পাহারায় রাখতাম। সেই ভাই একদিন আমাকে বলল, নিজামী স্যার শুধু রাজনৈতিক নেতা নন, তিনি গভীর রাত্রে একা একা বসে কিভাবে ইবাদত-বন্দেগী করেন তা চোখে না দেখলে বোঝা যাবে না। তিনি ছিলেন সত্যিকার আবেদ এবং বুজর্গ একজন মানুষ। অন্যদিকে একজন বড় মাপের রাজনীতিবিদ। তিনি ধীরে ধীরে কুরআন পাঠ করতেন। ধীরে ধীরে দোয়া করতেন, তার চোখ দিয়ে পানি ঝরত। জনসভার বক্তৃতায়, সেমিনারে, আলোচনাসভায়, টেবিলটকে সর্ব পর্যায়ে তার পরিমিত, মার্জিত, পরিশোধিত ও যুক্তিনির্ভর বক্তব্য সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। আমিসহ অনেকেই তার সাথে রমযানের শেষ দশদিন বহুবার ইতেকাফ করেছি। আমরা লক্ষ্য করেছি ইবাদাত-বন্দেগিতে তার একাগ্রতা ও গভীরতা। শুধু ইবাদাত-বন্দেগি নয়, তার জীবনের প্রতিটি কর্মই পরিচ্ছন্ন এবং ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের জন্য অনুসরণীয় এবং অনুকরণীয়। শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী একজন প্রখ্যাত আলেম, ইসলামী চিন্তাবিদ, সংগঠক, একজন সুবক্তা, দক্ষ পার্লামেন্টারিয়ান, লেখক, আল্লাহর পথে এক নিবেদিত প্রাণ ও সংগ্রামী নেতা। যেকোনো কঠিন সংকটময় মুহূর্তেও তিনি ঠাণ্ডা মাথায় সুচিন্তিত ও সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে চেষ্টা করেন, অন্যদিকে মহান রাব্বুল আলামীন আল্লাহ তায়ালার কাছে সেজদায় অবনত হয়ে কায়মনোবাক্যে তার সাহায্য প্রার্থনা করে থাকেন।

শহীদ মাওলানা নিজামীর জীবনের ছোট-বড় অনেক ঘটনা আমার জানা আছে যা তার সততা ও আন্তরিকতা এবং বিভিন্ন চারিত্রিক গুণাবলীকে ফুটিয়ে তোলে। এসব ঘটনা এই ছোট কলেবরে লেখা সম্ভব নয়।

আজিমপুর, বাংলার দুয়ার তার বাসা থেকে তিনি রিকশাতেই আসা-যাওয়া করতেন। অফিস থেকে গাড়ি দেওয়ার পর তিনি গাড়িতে যখন যেতেন তখন পথের মাঝে অফিসের কর্মী ভাই কাউকে দেখলেই গাড়ি থামিয়ে তার গাড়িতে তুলে নিতেন।

আমি দেখেছি তিনি নিজে বাজারে গিয়ে বাজার করতেন। তার লেনদেন, তার চাল-চলনসহ প্রতিটি ছোট-বড় কাজেই তার সততা ও আন্তরিকতা ফুটে উঠতো। বাজারের দোকানদাররা তার আচার-ব্যবহারে মুগ্ধ হয়ে যেত। যে এলাকায়ই তিনি বাসা নিয়ে থাকতেন সে এলাকার বাসার মালিকরা, যুবকরা বলতে গেলে আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা তাকে সমীহ এবং শ্রদ্ধা করতেন।

একবার এক ঈদের দিন মিন্টু রোডে তার সরকারি বাসভবনে এক অনুষ্ঠানে আমার ওপর অনুষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্ব পড়ে। সেই অনুষ্ঠানে সচিব থেকে শুরু করে বড় বড় কর্মকর্তা, সাধারণ কর্মচারীগণও উপস্থিত ছিলেন।

তিনি প্রধান অতিথির ভাষণে বলেন, “আল্লাহ তায়ালার কাছে আখিরাতে একজন পিয়নও আমীরের চেয়ে বেশি মর্যাদাবান হতে পারে, যদি পিয়ন হক পথে চলে এবং আল্লাহর হুকুম মোতাবেক জীবন-জীবিকা নির্বাহ করে। আল্লাহ তায়ালার কাছে সে ব্যক্তিই অধিক মর্যাদাবান, যে আল্লাহর হুকুম পরিপূর্ণভাবে এ দুনিয়ায় মেনে চলে।”

মিতভাষী, বিনয়ী, ধৈর্যশীল শহীদ মাওলানা নিজামী ব্যক্তি জীবনে যেমন অমায়িক, ব্যবহারিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক জীবনেও তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যগুলো উজ্জ্বল ভাস্বর হয়ে ফুঠে ওঠে। সততা, আমানতদারী, নিষ্ঠা, ধৈর্য তার জীবনের প্রতিটি স্তরে যেন এক-একটি উজ্জ্বল ধ্রুবতারার মতো দেদীপ্যমান।

তিনি আমার বয়সে বড় ছিলেন। অথচ এত বিনয়ী যে, আমাকে সম্বোধন করতেন মাযহার ভাই বলে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচিত আমীর, দুই-দুইবার পার্লামেন্ট মেম্বার, অত্যন্ত দক্ষ সংগঠক, গভীর জ্ঞানের অধিকারী, কুরআন ও হাদিসসহ ইসলামী জ্ঞানে সমৃদ্ধ উঁচুমানের একজন ইসলামী গবেষক, চিন্তাবিদ, ব্যুৎপত্তিসম্পন্ন ব্যক্তি।

উল্লেখ্য, তিনি কখনো অসুস্থ থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে তাকে নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে এনে শ্রদ্ধেয় আমীরে জামায়াত অধ্যাপক গোলাম আযমের সিটের পাশে শুইয়ে রাখা হতো। তিনি শুয়ে শুয়েই শুনতেন এবং মূল্যবান পরামর্শ প্রদান করতেন।

তার শিষ্টাচার, ভদ্রতা, কোমলতা, চরিত্র মাধুর্য ব্যক্তিত্ব মানুষকে সম্মোহিত করত। তার কথা, স্মৃতি মনে হলে মনের অজান্তেই চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ে। এ পার্থিব জগৎ থেকে তার বিয়োগান্ত তিরোধান ঘটলেও তিনি আজ আমাদের তথা ইসলামী আন্দোলনের অগণিত কর্মীদের প্রেরণার উৎস। সত্যিকার অর্থেই তিনি ছিলেন অত্যন্ত ভদ্র, অমায়িক এবং আদর্শ একজন নেতা, ‘একজন খাঁটি সোনার মানুষ’। তিনি কথা বলতেন কম। কিন্তু প্রয়োজনে যখন কথা বলতেন তা ছিল অত্যন্ত পরিশীলিত অত্যন্ত ভারী জ্ঞানগর্ভ এবং প্রাঞ্জল-পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। সস্তা ও হালকা কথা বলে মানুষের মন সাময়িক জয় করা যায় বটে, কিন্তু তা টেকসই হয় না। সুদূরপ্রসারী কোনো সুফলও বয়ে আনে না। যেমন যা তা খেয়ে (হালাল হলেও) পেট ভরালে ক্ষুধা মেটে, কিন্তু স্বাস্থ্য গড়ে ওঠে না। ভালো খাবার সামান্য খেলেই তা শরীর গঠনে কাজে লাগে, ফলপ্রসু হয়। শ্রদ্ধেয় নিজামী ভাইয়ের সকল বক্তব্যই এই তাৎপর্যই বহন করে। তিনি পটেনশিয়েল একগুচ্ছ নেতা তৈরি করে গিয়েছিলেন। তাদের কারো মধ্যে সামান্যতম ত্রুটি দেখলেও আমাকে বলতেন, ‘যাদেরকে নিজের হাতে তৈরি করেছি, তাদের মধ্যে ত্রুটি দেখলে মনে বড় দুঃখ লাগে। স্মৃতিতে কত কথাই না আজ ভেসে ওঠে। কিন্তু বিভাগীয় সম্পাদকের নির্দেশ আমাকে আটকে দিচ্ছে। কারণ ছোট করে লিখতে হবে। তবুও হয়তো একটু বড় হয়ে গেল। কিন্তু বলা হলো না আমাদের জন্য অনুসরণীয় অনুকরণীয় অতীব মূলব্যনা কথাগুলো। অতৃপ্ত রয়ে গেল মন।

একদিন এক বিশিষ্ট চিকিৎসক আমার সাথে কথা বলছিলেন। তিনি বললেন, চিকিৎসকদের সম্মেলনে আপনাদের নিজামী সাহেব এমন উঁচুমানের জ্ঞানগর্ভ বক্তৃতা দিয়েছেন, যা শুনে আশ্চর্য এবং মুগ্ধ হয়েছি আমরা। তারা ভাবতেই পারেনি যে, একজন মাওলানা মানুষ এত বড় বড় চিকিৎসকদের সামনে এমন জ্ঞানগর্ভ বক্তৃতা পেশ করতে পারেন। সত্যি বলতে কি আমি নিজেও তাকে দেখেছি বিভিন্ন পর্যায়ের ও শ্রেণির মানুষের সামনে ধীর-স্থিরভাবে। প্রয়োজন অনুযায়ী উপযোগী বক্তব্য প্রদান করতে। তার বিষয়ভিত্তিক আলোচনা, পরিমিতিবোধ, শব্দ চয়ন, সংসদে তথ্যবহুল বক্তব্য প্রদান, রাজনৈতিক নেতা হিসেবে মাঠে-ময়দানে, আবার কর্মীদের সামনে কিংবা নির্বাহী বা কর্মপরিষদ মজলিশে শূরার বৈঠকে বিভিন্ন অনুষ্ঠান পরিচালনায় বিভিন্ন পর্যায়ে স্থান-কাল-পাত্র ভেদে তার বক্তব্য পেশ ছিল আকর্ষণীয়।

সত্যিই শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী ছিলেন একজন খাঁটি সোনার মানুষ। জাগতিক জীবনের সবদিকেই ফুটে উঠতো দীপ্তিময় আলোকবর্তিকা। তার জীবন ও কর্ম যেন সূরা আল-আসরের প্রতিচ্ছবি।

তিনি অফুরন্ত আকাশে ধ্রুবতারার মতোই জ¦লবে, অমর হয়ে থাকবে, দিক থেকে দিগন্তে, ইথারে ভেসে বেড়াবে, সুগন্ধ ছড়াবে বিশ্ব মানবের মাঝে। আমরা হবো ধন্য, হাঁটবো তারই শেখানো পথে। আমাদের পথÑ সিরাতুল মুস্তাকিম। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জন, আখেরাতে নাজাত লাভ। হে আল্লাহ! শ্রদ্ধেয় নিজামী ভাই-এর শাহাদাত কবুল করুন। জান্নাতুল ফেরদৌসের সর্বোচ্চ আসন দান করুন। তার কবরকে জান্নাতের টুকরো বানিয়ে দিন। আমীন।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews