ভোলা-৩ (লালমোহন-তজুমদ্দিন) আসনের বিএনপির প্রার্থী মেজর (অবঃ) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম বলেছেন, এবারের নির্বাচনে দুর্বৃত্ত সন্ত্রাসী আওয়ামী লীগ নাই, কিন্তু এবার ভোট করতে হচ্ছে ধর্ম নিয়ে ব্যবসা করে এমন একটি দলের সাথে। স্বাধীনতা যুদ্ধে যারা আমাদের বিরোধিতা করেছিল। তাদের কেউ কেউ আমাদের গ্রামের সহজ সরল মহিলাদের গিয়ে বোঝায়, অমুক মার্কায় ভোট দিলে মৃত্যুর পর জান্নাতে যাওয়া যাবে। সাধারণ মানুষ দলের নামে ইসলাম দেখে বিভ্রান্ত হতে পারে। কিন্তু আগামী দিনে সত্যের জয় হবে। বুধবার বিকেলে ভোলার লালমোহনে হিন্দু সমাজের প্রতিনিধিদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন মেজর হাফিজ।
লালমোহন মদন মোহন আখড়া বাড়ি প্রাঙ্গণে হিন্দু সমাজ সম্মেলনীর আয়োজনে মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন হিন্দু সমাজ সম্মেলনীর সভাপতি নিরব কুমার দে। এসময় বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাফর ইকবাল, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বাবুল, পৌরসভা বিএনপির সভাপতি ছাদেক মিয়া জান্টু, সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান বাবুল। উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক সোহেল আজীজ শাহিন, পৌর যুবদলের সভাপতি জাকির ইমরান, সাবেক ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি নন্দ দুলাল কুন্ডু, বিএনপি নেতা সুবাস কুন্ডু, কাজল গাঙ্গুলী, মন্টু কুন্ডু পৌর যুবদলের সহসভাপতি নিরব পাল প্রমূখ।
মতবিনিময় সভায় মেজর (অবঃ) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ আরো বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে ইনশাআল্লাহ গণতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে যাকে যোগ্য মনে হয় ভোট দিবেন। তবে দেশের জন্য কল্যাণকর ব্যক্তিকেই ভোট দিবেন। কিন্তু সবাইকে ভোট কেন্দ্রে যেতে হবে। বাংলাদেশকে যারা সুখি সমৃদ্ধ করতে পারবে সেধরণের ব্যক্তিকে আপনারা বেছে নেবেন।
তিনি বলেন, আমরা একটি সুন্দর বাংলাদেশ দেখতে চাই। আমরা মৃতুর আগে সার্বোভৌম বাংলাদেশ দেখতে চাই। যেখানে কোন বিভাজন থাকবে না। এদেশে মুসলমানরা যেসব সুবিধা নিয়ে বাস করে, হিন্দুরাও একই সুযোগ পাবে। কোন বৈষম্য হবে না। এমন স্বপ্ন দেখে আমরা যুদ্ধ করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু সেই স্বপ্নের বাস্তবায়ন এখনো পুরোপুরি হয়নি। প্রত্যেক নির্বাচনে আমরা আশা করি, ভালো একটা সরকার হবে। সেই সরকার সুন্দর সমাজ ব্যবস্থা কায়েম করবে। কিন্তু দেখা যায় যে, নির্বাচনের আগে যত প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়, নির্বাচনের পরে আর এসব কথা থাকে না। আমরা এবার আশা করছি, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে গণতন্ত্র দৃঢভাবে প্রোথিত হবে বাংলাদেশের মাটিতে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি চিরস্থায়ী থাকবে। এটাই আমরা আশা করি।